ফেব্রুয়ারি-মার্চে আলু হিমাগারে রেখে অক্টোবর-নভেম্বরে বেচলে লাভ হবে কি? পরিমাণ, কেনা দাম আর প্রত্যাশিত বিক্রি দাম দিন — ভাড়া, পরিবহন ও ক্ষয় ধরে ব্রেক-ইভেন দাম আর নিট লাভ-ক্ষতি দেখুন।
পরিমাণের একক
৳
৳
৳
সরকারি সর্বোচ্চ ৳৬.০০/কেজি · রাজশাহী ৳৫.৭৫/কেজি · মালিকদের দাবি ৳৯.৬২/কেজি
৳
ট্রাক ভাড়া + লোডিং-আনলোডিং মিলিয়ে
৭.৫%
প্রত্যাশিত দামে নিট লাভ
৳৭৩,৮৭৫
বস্তা প্রতি লাভ ৳৭৩৯
আলু কেনা
৳৫০,০০০
হিমাগার ভাড়া
৳৩০,০০০
পরিবহন
৳৮,০০০
সব মিলিয়ে খরচ
৳৮৮,০০০
ক্ষয় বাদে নিট আলু
৪,৬২৫ কেজি
ব্রেক-ইভেন দাম (প্রতি কেজি)
৳১৯.০৩
প্রত্যাশিত দামে বিক্রি
৳১,৬১,৮৭৫
১০০ বস্তা (৫০ কেজি) আলু ৳১০/কেজিতে রেখে ৳৩৫/কেজিতে বেচলে নিট লাভ ৳৭৩,৮৭৫।
ভাড়ার হার প্রযোজ্য ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত (ডিএএম বিজ্ঞপ্তি)
১০০ বস্তা ১৮ টাকা/কেজিতে কিনে ১০ টাকায় বেচতে বাধ্য হলে?
২০২৫-২৬ মৌসুমে সংগ্রহের সময় দাম বেশি ছিল, কিন্তু বিক্রির সময় দাম পড়ে ৯–১০ টাকায় নেমে আসে — সব খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজিতে খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২৮ টাকা।
তাই হিমাগারে রাখার আগেই ব্রেক-ইভেন বের করে দেখুন — প্রত্যাশিত দাম এর নিচে থাকলে না রাখাই ভালো।
বাংলাদেশে যা জানা দরকার
ভাড়া মৌসুমি ফ্ল্যাট: প্রতি কেজিতে একবার ভাড়া — কয় মাস রাখলেন তার ওপর ভাগ হয় না।
৫০ কেজির বস্তা বাধ্যতামূলক (২০২৫ থেকে)। ৫০ × ৬ টাকা = প্রতি বস্তায় ভাড়া ৩০০ টাকা।
মৌসুম: ফেব্রুয়ারি-মার্চে রাখা, অক্টোবর-নভেম্বরে বের করা; ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মালিকানা হস্তান্তর।
বর্তমান হার প্রযোজ্য ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত (ডিএএম বিজ্ঞপ্তি, ৩১ আগস্ট ২০২৬)। মেয়াদ শেষে হার বদলাতে পারে।
স্বাভাবিক দামের ব্যবধান: সংগ্রহের সময় ৮–১১ টাকা/কেজি, মৌসুমের বাইরে সাধারণত ৩৫–৪০ টাকা — এই ফারাক থেকেই লাভ হয়, কিন্তু ২০২৫-২৬-এর মতো উল্টোটাও হতে পারে।
ভাড়ার হারের ধারাবাহিকতা
সময়
হার (প্রতি কেজি)
ফেব্রুয়ারি ২০২৫ (মালিক সমিতি)
৮.০০ টাকা
২ মার্চ ২০২৫ (সরকারি সীমা)
৬.৭৫ টাকা
আগস্ট ২০২৬ (মালিকদের দাবি: খরচ)
৯.৫২–৯.৬২ টাকা
৩১ আগস্ট ২০২৬ (সরকারি সীমা, বর্তমান)
৬.০০ টাকা
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রাজশাহী)
৫.৭৫ টাকা
বিস্তারিত: হিমাগারে রাখা কখন লাভজনক
হিমাগারে আলু রাখা আসলে ভবিষ্যৎ দামের ওপর বাজি। সংগ্রহের মৌসুমে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) বাজারে আলু বেশি থাকায় দাম পড়ে যায় ৮–১১ টাকায়। মৌসুমের বাইরে (অক্টোবর-নভেম্বর) সরবরাহ কমে দাম ওঠে ৩৫–৪০ টাকায়। এই ২৫–৩০ টাকার ফারাক থেকে ভাড়া (৬ টাকা), পরিবহন (বস্তা প্রতি ৬৫–১০০ টাকা, অর্থাৎ কেজি প্রতি ১.৩০–২ টাকা) আর ক্ষয় (৫–১০%) বাদ দিয়েও লাভ থাকে — এটাই স্বাভাবিক হিসাব।
কিন্তু ২০২৫-২৬ মৌসুমে উল্টোটা ঘটে: সংগ্রহের দামই বেশি ছিল, আর বিক্রির সময় দাম ৯–১০ টাকায় নেমে আসে। সব মিলিয়ে প্রতি কেজিতে খরচ ২৮ টাকা পড়লেও বিক্রি হয় ১০ টাকার নিচে — ফলে বড় ক্ষতি। এই ক্যালকুলেটরের ক্ষতির সতর্কবার্তা ঠিক এই পরিস্থিতি ধরার জন্যই।
মনে রাখুন: ভাড়া মৌসুমি ফ্ল্যাট — আগে বের করলেও পুরো ভাড়া দিতে হয় (ছাড়ের নিয়ম নিশ্চিত নয়)। তাই রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই রক্ষণশীল বিক্রি দাম ধরে (যেমন গত বছরের সর্বনিম্ন) হিসাব করে দেখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
এখন হিমাগারে আলু রাখার ভাড়া কত?
সরকারি সর্বোচ্চ ৬.০০ টাকা/কেজি (৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রযোজ্য)। রাজশাহীতে ৫.৭৫ টাকা/কেজি। ৫০ কেজির বস্তায় ভাড়া পড়ে ৩০০ টাকা। মালিকদের দাবি, তাঁদের খরচ পড়ে ৯.৬২ টাকা/কেজি।
৫০ কেজির বস্তা কি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, ২০২৫ সাল থেকে হিমাগারে ৫০ কেজির বস্তার নিয়ম চালু হয়েছে। এই ক্যালকুলেটর বস্তা মানেই ৫০ কেজি ধরে।
আলু কখন হিমাগারে রাখে আর কখন বের করে?
ফেব্রুয়ারি-মার্চে সংগ্রহের মৌসুমে রাখা হয়, অক্টোবর-নভেম্বরে বের করে বেচা হয়। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মালিকানা হস্তান্তরের নিয়ম আছে।
আগে বের করলে ভাড়া কমবে কি?
না — ভাড়া মৌসুমি ফ্ল্যাট, প্রতি কেজিতে একবারই ধরা হয়; মাস হিসেবে ভাগ হয় না। আগে বের করলে ছাড়ের নিয়ম নিশ্চিত নয়।
শুকিয়ে আর পচে কতটুকু কমে?
বিনার হিসাবে ক্ষয় প্রায় ১০%। এই ক্যালকুলেটরে ৭.৫% ধরা আছে, স্লাইডারে ৫–১০%-এর মধ্যে বদলাতে পারবেন।
পরিবহন আর মজুরি-বস্তার খরচ কীভাবে ধরব?
প্রতি বস্তায় ট্রাক ভাড়া + লোডিং-আনলোডিং মিলিয়ে একটা অঙ্ক দিন (সাধারণত বস্তা প্রতি ৬৫–১০০ টাকার মধ্যে)। মজুরি-বস্তা আলাদা দিলে পরিবহনের ঘরেই যোগ করে দিন।
ব্রেক-ইভেন দাম মানে কী? এখনই বেচে দেওয়া ভালো কি?
ব্রেক-ইভেন দাম হলো ক্ষয় বাদে প্রতি কেজিতে আপনার সব খরচ — এর নিচে বেচলেই ক্ষতি। প্রত্যাশিত দাম এর চেয়ে কম হলে এখনই বেচে দেওয়া বা হিমাগারে না রাখাই ভালো হতে পারে।
এই নামেও খোঁজেন
আলু কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া · হিমাগারে আলু রাখার খরচ · হিমাগার ভাড়া ২০২৬ সরকারি রেট · আলু কখন বিক্রি করলে লাভ · himagar vara · cold storage vara per kg · potato cold storage rent Bangladesh