আয়তাকার জমির ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য × প্রস্থ; বর্গফুটকে ৪৩৫.৬ দিয়ে ভাগ করলে শতক। যেমন ৬৬ ফুট × ৬৬ ফুট = ৪,৩৫৬ বর্গফুট = ঠিক ১০ শতক। নিচে জমির আকার বেছে মাপ দিন।
জমির আকার
মাপের একক
ফুট
ফুট
ফুট
ফুট
ফুট
জমির ক্ষেত্রফল
১০ শতক
= ৪,৩৫৬ বর্গফুট · ৬.০৫ কাঠা
শতক (শতাংশ)
১০
কাঠা
৬.০৫
বিঘা
০.৩০২৫
একর
০.১
বর্গফুট
৪,৩৫৬
বর্গমিটার
৪০৪.৬৯
অযুতাংশ
১,০০০
এই আয়তাকার / বর্গাকার জমির ক্ষেত্রফল ১০ শতক, অর্থাৎ ৬.০৫ কাঠা বা ৪,৩৫৬ বর্গফুট।
হাতে মাপা আয়তাকার জমি: লম্বা ৩০ হাত, চওড়া ২০ হাত।
৩০ হাত = ৪৫ ফুট, ২০ হাত = ৩০ ফুট। ৪৫ × ৩০ = ১,৩৫০ বর্গফুট। ১,৩৫০ ÷ ৪৩৫.৬ ≈ ৩.১ শতক, আর ১,৩৫০ ÷ ৭২০ = ১.৮৭৫ কাঠা।
অসমান চার বাহুর জমি: ক = ১০০, খ = ৬০, গ = ৮০, ঘ = ৫০ ফুট, কোনাকুনি ঙ = ১১০ ফুট।
দুই ত্রিভুজের যোগফল ≈ ৪,৮০৯.৫ বর্গফুট ≈ ১১.০৪ শতক। গড় পদ্ধতিতে (৯০ × ৫৫) = ৪,৯৫০ বর্গফুট ≈ ১১.৩৬ শতক দেখায় — প্রায় ২.৯% বেশি।
বাংলাদেশে যা জানা দরকার
মাপের একক: ১ হাত = ১৮ ইঞ্চি = ১.৫ ফুট; ১ গজ = ৩ ফুট; ১ মিটার ≈ ৩.২৮ ফুট; জরিপের ১ চেইন = ৬৬ ফুট।
জমির একক: ১ শতক (শতাংশ) = ৪৩৫.৬ বর্গফুট, ১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট, ১ বিঘা = ২০ কাঠা — এগুলো প্রমিত মাপ। অঞ্চলভেদে কাঠা-বিঘার স্থানীয় মাপ আলাদা হতে পারে।
কোনাকুনি মাপ জরুরি: আমিনরাও অসমান জমি ত্রিভুজে ভাগ করে মাপেন। ফিতা টানটান রেখে মাটির সমান্তরালে মাপুন।
আইনি মাপ: দলিল, খতিয়ান আর মৌজা নকশার মাপই চূড়ান্ত; এই ক্যালকুলেটর ধারণা দেওয়ার জন্য।
বিস্তারিত: কেন শুধু চার বাহু দিয়ে জমির মাপ হয় না
একটি দরজার ফ্রেমের কথা ভাবুন। চার কাঠ একই রেখে ফ্রেমটি একদিকে চাপ দিলে সেটি হেলে যায়, ভেতরের জায়গা কমে যায় — কিন্তু চার বাহুর দৈর্ঘ্য বদলায় না। জমির ক্ষেত্রেও একই কথা: চার বাহু জানলেও কোনার কোণ না জানলে ক্ষেত্রফল নিশ্চিত হয় না।
একটি কোনাকুনি মাপ যোগ করলে জমি দুটি ত্রিভুজে ভাগ হয়, আর তিন বাহু জানা থাকলে ত্রিভুজের আকার আর বদলাতে পারে না। তখন হিরনের সূত্রে প্রতিটি ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল বের করে যোগ করলেই সঠিক মাপ পাওয়া যায়।
গ্রামে প্রচলিত “বিপরীত বাহুর গড় × অন্য দুই বাহুর গড়” পদ্ধতিটি দ্রুত, কিন্তু কোণগুলো সমকোণ না হলে সবসময় কিছুটা বেশি দেখায়। ক্রয়-বিক্রয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে কোনাকুনি মাপসহ হিসাব করাই নিরাপদ।
সাধারণ প্রশ্ন
জমির ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের সূত্র কী?
আয়তাকার জমি: দৈর্ঘ্য × প্রস্থ। ত্রিভুজ: হিরনের সূত্র √[s(s−ক)(s−খ)(s−গ)], যেখানে s = তিন বাহুর যোগফলের অর্ধেক। ট্রাপিজিয়াম: (দুই সমান্তরাল বাহুর যোগফল ÷ ২) × তাদের মাঝের দূরত্ব। ফল বর্গফুটে এলে ৪৩৫.৬ দিয়ে ভাগ করলে শতক।
চার দিকের মাপ আলাদা হলে জমি কীভাবে মাপব?
চার বাহুর পাশাপাশি এক কোনা থেকে উল্টো কোনা পর্যন্ত একটি কোনাকুনি মাপ নিন। এই মাপ জমিকে দুটি ত্রিভুজে ভাগ করে; দুই ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল যোগ করলেই সঠিক মাপ। শুধু চার বাহু দিয়ে সঠিক ক্ষেত্রফল বের করা যায় না, কারণ একই চার বাহুর জমি কোনার কোণ বদলালে ছোট-বড় হয়।
গ্রামে যে গড় করে জমি মাপা হয়, সেটা কি ঠিক?
অনেক জায়গায় দুই বিপরীত বাহুর গড় × অন্য দুই বাহুর গড় করে মাপা হয়। কোনাগুলো প্রায় সমকোণ হলে এটা কাছাকাছি আসে, কিন্তু জমি বাঁকা হলে কয়েক শতাংশ বেশি দেখায়। এই ক্যালকুলেটর দুটো ফলই দেখায়, পার্থক্যসহ।
ত্রিভুজ আকৃতির জমির ক্ষেত্রফল কীভাবে বের করব?
তিন বাহু মাপুন। ধরুন ৫০, ৬০ ও ৭০ ফুট। s = (৫০ + ৬০ + ৭০) ÷ ২ = ৯০। ক্ষেত্রফল = √(৯০ × ৪০ × ৩০ × ২০) ≈ ১,৪৬৯.৭ বর্গফুট ≈ ৩.৩৭ শতক।
জমির মাপ হাতে নিলে কীভাবে হিসাব করব?
১ হাত = ১.৫ ফুট (১৮ ইঞ্চি)। হাতের মাপকে ১.৫ দিয়ে গুণ করে ফুট বানান, অথবা ক্যালকুলেটরে একক হিসেবে "হাত" বেছে নিন — বাকিটা নিজেই হবে।
ফুট থেকে শতক বের করার নিয়ম কী?
দৈর্ঘ্য × প্রস্থ (ফুটে) করে বর্গফুট বের করুন, তারপর ৪৩৫.৬ দিয়ে ভাগ করুন। কাঠা চাইলে ৭২০ দিয়ে ভাগ করুন।
চেইন দিয়ে মাপা জমি কীভাবে হিসাব হয়?
জরিপে ব্যবহৃত গান্টার চেইন ৬৬ ফুট লম্বা (১০০ লিংক)। ১০ চেইন × ১ চেইন = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট = ১ একর। ক্যালকুলেটরে একক "চেইন" বেছে সরাসরি মাপ দিতে পারেন।
আমিনের মাপের সঙ্গে না মিললে কী করব?
এই হিসাব আপনার দেওয়া মাপ অনুযায়ী ধারণা দেয়। দলিল, খতিয়ান আর সরকারি নকশায় যে মাপ, সেটিই আইনগতভাবে চূড়ান্ত। বড় পার্থক্য হলে লাইসেন্সধারী সার্ভেয়ার দিয়ে আবার মাপান।
এই নামেও খোঁজেন
জমির ক্ষেত্রফল নির্ণয় · জমি মাপার সূত্র · জমি মাপার নিয়ম · ফুট থেকে শতাংশ · jomi mapar sutro · jomi mapar niyom · land area calculator 4 sides · land area calculator bangladesh