জমি ভাগের সূত্র
| জানতে চান | সূত্র | উদাহরণ |
|---|---|---|
| সমান ভাগে জনপ্রতি | মোট ÷ ভাগীদার | ৩৩ ÷ ৩ = ১১ শতক |
| অনুপাতে ১ অংশ | মোট ÷ সব অংশের যোগফল | ৩৩ ÷ (২+২+১) = ৬.৬ শতক |
| অনুপাতে একজনের ভাগ | ১ অংশ × তাঁর অংশ | ৬.৬ × ২ = ১৩.২ শতক |
| কাঠায় | শতক × ৪৩৫.৬ ÷ ৭২০ | ১১ শতক ≈ ৬.৬৬ কাঠা |
| বর্গফুটে | শতক × ৪৩৫.৬ | ১১ × ৪৩৫.৬ = ৪,৭৯১.৬ |
উদাহরণ
৩৩ শতক, ৩ ভাই সমান ভাগে: জনপ্রতি ১১ শতক (≈ ৬.৬৬ কাঠা, ৪,৭৯১.৬ বর্গফুট)।
২০ শতক, ৪ বোন সমান ভাগে: জনপ্রতি ৫ শতক (≈ ৩.০৩ কাঠা, ২,১৭৮ বর্গফুট)।
৩৩ শতক, দুই ছেলে এক মেয়ে (২:২:১): মোট ৫ অংশ, ১ অংশ = ৬.৬ শতক। প্রত্যেক ছেলে ১৩.২ শতক (≈ ৭.৯৯ কাঠা), মেয়ে ৬.৬ শতক (≈ ৩.৯৯ কাঠা)।
১ বিঘা, দুজন ৬ লাখ ও ৪ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছেন: অনুপাত ৬:৪। প্রথমজন ১২ কাঠা (≈ ১৯.৮৩ শতক), দ্বিতীয়জন ৮ কাঠা (≈ ১৩.২২ শতক)।
বাংলাদেশে যা জানা দরকার
- এককের মাপ: ১ শতক = ৪৩৫.৬ বর্গফুট, ১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট, ১ বিঘা = ২০ কাঠা (প্রায় ৩৩ শতক), ১ একর = ১০০ শতক। কিছু অঞ্চলে বিঘা বা গণ্ডার মাপ আলাদা — দলিলে লেখা মাপই ধরুন।
- উত্তরাধিকার: মুসলিম উত্তরাধিকারে অংশ ঠিক হয় ফারায়েজ অনুযায়ী (যেমন ছেলে মেয়ের দ্বিগুণ, তবে স্ত্রী/মা/বাবার অংশ আগে)। হিন্দু উত্তরাধিকারে দায়ভাগ আইন প্রযোজ্য। সন্দেহ থাকলে আইনজীবী বা স্থানীয় ভূমি অফিসের পরামর্শ নিন।
- বণ্টননামা ও নামজারি: সবাই একমত হলে বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রি করুন, তারপর প্রত্যেকে নিজের অংশের ই-নামজারি করুন। একমত না হলে দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মামলা করতে হয়।
বিস্তারিত: বিরোধ এড়িয়ে জমি ভাগের ধাপ
১. আগে মোট জমি নিশ্চিত করুন। সর্বশেষ খতিয়ান (বিএস/আরএস), দলিল আর মাঠের মাপ মিলিয়ে দেখুন। কাগজে ৩৩ শতক থাকলেও মাঠে কম-বেশি হতে পারে। দরকার হলে সার্ভেয়ার দিয়ে মেপে নিন।
২. যৌথ জায়গা বাদ দিন। সবার যাতায়াতের রাস্তা, পুকুরঘাট, কবরস্থান বা মসজিদের জায়গা ভাগ করার আগে আলাদা করে রাখুন। এই ক্যালকুলেটরে শুধু বাকি জমিটুকু লিখুন।
৩. অংশ ঠিক করুন। কেনা জমি হলে সাধারণত যে যত টাকা দিয়েছেন সেই অনুপাতে ভাগ হয় — টাকার অঙ্কই অংশ হিসেবে লিখতে পারেন। উত্তরাধিকারে অংশ আইন অনুযায়ী ঠিক হয়; অংশগুলো ভগ্নাংশ হলে (যেমন ১/৮, ৭/২৪) একই হর ধরে লব লিখুন — ৩:৭ ইত্যাদি।
৪. পরিমাণের সঙ্গে অবস্থানও দেখুন। সমান শতক মানে সমান দাম নয়। রাস্তার পাশের প্লট, কোণার প্লট বা উঁচু জমির দাম বেশি। অনেক পরিবার দাম মিলিয়ে নিতে রাস্তার পাশের অংশ একটু ছোট করে দেয়, অথবা টাকায় সমন্বয় করে।
৫. লিখিত বণ্টননামা। মৌখিক ভাগে পরে বিরোধ হয়। প্রত্যেকের প্লটের দাগ নম্বর, চৌহদ্দি (চারদিকের সীমানা) আর মাপ লিখে বণ্টননামা রেজিস্ট্রি করুন, তারপর নিজের নিজের অংশ নামজারি করুন। এতে খাজনা আলাদা দেওয়া আর পরে বিক্রি করা সহজ হয়।
হিসাবের দশমিক: ভাগ করলে অনেক সময় দশমিক আসে (যেমন ৬.৬৬ কাঠা)। মাঠে মাপার সময় বর্গফুটের হিসাব বেশি কাজে আসে — তাই টেবিলে বর্গফুটও দেখানো হয়েছে। দশমিক গোল করার পর সবার যোগফল মোটের চেয়ে সামান্য কম-বেশি হতে পারে; শেষ জনের ভাগে সেটুকু সমন্বয় করুন।