নির্মাণের সূত্র
| মান | প্রতি বর্গফুট | ১,০০০ বর্গফুটে |
|---|---|---|
| সাধারণ | ~২,৪০০ | ~২৪ লাখ |
| মাঝারি | ~৩,২০০ | ~৩২ লাখ |
| প্রিমিয়াম | ~৪,৫০০ | ~৪৫ লাখ |
উদাহরণ
১,০০০ বর্গফুট মাঝারি: ১,০০০ × ৩,২০০ = ৩২,০০,০০০ টাকা।
১,৫০০ বর্গফুট সাধারণ: ১,৫০০ × ২,৪০০ = ৩৬,০০,০০০ টাকা।
৩ তলা, প্রতি তলা ১,২০০ বর্গফুট, মাঝারি: ১,২০০ × ৩ = ৩,৬০০ বর্গফুট; ৩,৬০০ × ৩,২০০ = ১,১৫,২০,০০০ টাকা (প্রতি তলা ৩৮,৪০,০০০)। ১০% জরুরি তহবিলসহ ১,২৬,৭২,০০০ টাকা।
বাংলাদেশে যা জানা দরকার
- অনুমোদন: ঢাকায় রাজউক, অন্য শহরে সিডিএ/কেডিএ/আরডিএ বা পৌরসভা, আর ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নকশা অনুমোদন নিতে হয়। ঢাকায় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী জমির কতটুকুতে কত তলা (FAR) তোলা যাবে তা নির্ধারিত।
- মাটি পরীক্ষা ও পাইলিং: নিচু বা ভরাট জমিতে পাইলিং লাগে, তাতে খরচ অনেক বাড়ে। বহুতল হলে সয়েল টেস্ট করে প্রকৌশলীর ডিজাইন নিন।
- মালামালের দাম: রড ও সিমেন্টের দাম মাসে মাসে বদলায়। রড-সিমেন্টের হিসাবের জন্য রড ও ইট-সিমেন্ট-বালু ক্যালকুলেটর দেখুন।
- রেট যাচাই: এখানের প্রতি বর্গফুট রেট ২০২৬-এর খবর থেকে নেওয়া মাঝামাঝি অঙ্ক [যাচাই করুন]। দুই-তিনজন ঠিকাদারের কোটেশন মিলিয়ে নিজের রেট বসান।
বিস্তারিত: বাজেটের বাইরের খরচ
অনুমোদন (RAJUK/পৌরসভা), ডিজাইন ফি (২–৬ লাখ), পাইলিং, বাউন্ডারি ওয়াল, গেট, সেপটিক ট্যাংক ও ইন্টেরিয়র — এগুলো মূল নির্মাণের বাইরে আরও ১৫–২৫% যোগ করে। মোট বাজেটে ১০% জরুরি তহবিল রাখুন।
তিন মানের মানে কী। সাধারণ মানে সাধারণ টাইলস, স্থানীয় ফিটিংস ও কম কাঠের কাজ; মাঝারি মানে ভালো ব্র্যান্ডের টাইলস-স্যানিটারি, গ্রিল ও কিছু কাঠের দরজা; প্রিমিয়াম মানে দামি টাইলস/মার্বেল, আমদানি করা ফিটিংস, ফলস সিলিং ও বেশি কাঠের কাজ। কাঠামোর (রড-সিমেন্ট-ইট) খরচ তিন মানে কাছাকাছি, পার্থক্য বেশি হয় ফিনিশিংয়ে।
ঠিকাদারের কোটেশন মিলিয়ে নিন। “লেবার কন্ট্রাক্ট” হলে ঠিকাদার শুধু মজুরি নেন, মালামাল আপনি কেনেন — এই রেট প্রতি বর্গফুট অনেক কম দেখায়, কিন্তু মালামাল যোগ করলে মোট খরচ কাছাকাছি হয়। “ফুল কন্ট্রাক্ট” বা টার্নকি হলে মালামাল ও মজুরি দুটোই ঠিকাদারের। কোটেশনে কী কী ধরা আছে (স্যানিটারি, বিদ্যুতের তার, রং, গ্রিল) লিখিত নিন।
ধাপে ধাপে বাজেট। সাধারণত টাকা লাগে ধাপে: ফাউন্ডেশন ও কলাম, ছাদ ঢালাই, ইটের গাঁথুনি, তারপর প্লাস্টার, বিদ্যুৎ-পানি ও ফিনিশিং। প্রতিটি ছাদ ঢালাইয়ের আগে রড-সিমেন্ট একসাথে কিনলে দামের ওঠানামার ঝুঁকি কমে।