ইট, সিমেন্ট আর বালুর সূত্র
ইটের গাঁথুনি
- দেয়ালের আয়তন (ঘনফুট) = দৈর্ঘ্য × উচ্চতা × পুরুত্ব (ইঞ্চি) ÷ ১২
- ইটের সংখ্যা = আয়তন × ১,৭২৮ ÷ ১৫০ (মসলাসহ একটি ইট ১০″ × ৫″ × ৩″ = ১৫০ ঘন ইঞ্চি)
- ভেজা মসলা = আয়তন − ইটের সংখ্যা × ১১৭.৫৬ ÷ ১,৭২৮ (মসলা ছাড়া ইট ৯.৫″ × ৪.৫″ × ২.৭৫″)
- শুকনো উপকরণ = ভেজা মসলা × ১.৩৩
- সিমেন্ট (ঘনফুট) = শুকনো উপকরণ ÷ (অনুপাতের যোগফল); ব্যাগ = সিমেন্ট ÷ ১.২৫
- বালু = সিমেন্ট (ঘনফুট) × বালুর ভাগ
প্লাস্টার: ভেজা আয়তন = ক্ষেত্রফল × পুরুত্ব ÷ ১২; ইটের জোড়া ভরাট ও দেয়ালের অসমতার জন্য × ১.২, তারপর একই নিয়মে × ১.৩৩। দরজা-জানালা: গাঁথুনি ও প্লাস্টারে ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য × উচ্চতা − দরজা-জানালার মোট ক্ষেত্রফল। ঢালাই: ভেজা আয়তন × ১.৫৪ = শুকনো উপকরণ; ১:২:৪ হলে যোগফল ৭, তাই সিমেন্ট = শুকনো ÷ ৭, বালু তার ২ গুণ, খোয়া ৪ গুণ।
অপচয় দিলে সব উপকরণে সেই হারে যোগ হয়। কেনার হিসাবে ইট, ব্যাগ আর ঘনফুট পূর্ণ সংখ্যায় উপরের দিকে নেওয়া হয়।
উদাহরণ
১০ ইঞ্চি দেয়াল: ২০ ফুট লম্বা, ১০ ফুট উঁচু, ১:৬ মসলা, অপচয় ৫%। আয়তন = ২০০ × ১০ ÷ ১২ = ১৬৬.৬৭ ঘনফুট। ইট = ১৬৬.৬৭ × ১,৭২৮ ÷ ১৫০ = ১,৯২০টি, অপচয়সহ ২,০১৬টি। ভেজা মসলা ৩৬.০৪ ঘনফুট; শুকনো = ৩৬.০৪ × ১.০৫ × ১.৩৩ = ৫০.৩৩ ঘনফুট। সিমেন্ট = ৫০.৩৩ ÷ ৭ = ৭.১৯ ঘনফুট = ৫.৭৫ ব্যাগ (কিনতে হবে ৬ ব্যাগ), বালু = ৭.১৯ × ৬ = ৪৩.১৪ ঘনফুট। ইট ৳১৪, সিমেন্ট ব্যাগ ৳৫৫০, বালু ঘনফুট ৳৪৫ ধরলে খরচ: ইট ৳২৮,২২৪ + সিমেন্ট ৳৩,৩০০ + বালু (৪৪ ঘনফুট) ৳১,৯৮০ = ৳৩৩,৫০৪ (দামগুলো শুধু উদাহরণ)। একই দেয়ালে একটি ৩ × ৭ ফুটের দরজা আর একটি ৫ × ৩ ফুটের জানালা থাকলে (মোট ৩৬ বর্গফুট) ক্ষেত্রফল হয় ১৬৪ বর্গফুট: ইট ১,৬৫৪টি, সিমেন্ট ৪.৭২ ব্যাগ (৫ ব্যাগ), বালু ৩৫.৩৮ ঘনফুট।
ছাদ ঢালাই: ২০ × ১৫ ফুট, ৫ ইঞ্চি পুরু, ১:২:৪, অপচয় ৫%। আয়তন ১২৫ ঘনফুট; শুকনো = ১২৫ × ১.০৫ × ১.৫৪ = ২০২.১৩ ঘনফুট। সিমেন্ট ২৩.১ ব্যাগ (২৪ ব্যাগ), বালু ৫৭.৭৫ ঘনফুট, খোয়া ১১৫.৫ ঘনফুট।
প্রতি ১০০ বর্গফুটে কত লাগে (অপচয় ছাড়া)
| কাজ | ইট | সিমেন্ট (ব্যাগ) | বালু (ঘনফুট) |
|---|---|---|---|
| ৫ ইঞ্চি দেয়াল, ১:৪ | ৪৮০ | ১.৯২ | ৯.৫৯ |
| ৫ ইঞ্চি দেয়াল, ১:৬ | ৪৮০ | ১.৩৭ | ১০.২৭ |
| ১০ ইঞ্চি দেয়াল, ১:৪ | ৯৬০ | ৩.৮৩ | ১৯.১৭ |
| ১০ ইঞ্চি দেয়াল, ১:৬ | ৯৬০ | ২.৭৪ | ২০.৫৪ |
| ½ ইঞ্চি প্লাস্টার, ১:৪ | — | ১.০৬ | ৫.৩২ |
| ½ ইঞ্চি প্লাস্টার, ১:৬ | — | ০.৭৬ | ৫.৭০ |
| ¾ ইঞ্চি প্লাস্টার, ১:৪ | — | ১.৬০ | ৭.৯৮ |
| ৫ ইঞ্চি ঢালাই, ১:২:৪ | — | ৭.৩৩ | ১৮.৩৩ (খোয়া ৩৬.৬৭) |
বাংলাদেশে যা জানা দরকার
- ইটের মাপ: প্রচলিত প্রথম শ্রেণির ইট ৯.৫″ × ৪.৫″ × ২.৭৫″ (২৪০ × ১১৫ × ৭০ মিমি), ½ ইঞ্চি জোড়াসহ ১০″ × ৫″ × ৩″। অনেক ভাটার ইট এর চেয়ে ছোট হয়; তখন একই দেয়ালে বেশি ইট লাগে। কেনার আগে কয়েকটা ইট মেপে দেখুন।
- ৫ ইঞ্চি দেয়াল সাধারণত ভেতরের পার্টিশন, মসলা ১:৪। ১০ ইঞ্চি দেয়াল বাইরের বা ভারবাহী, মসলা প্রায়ই ১:৬ বা ১:৫। নকশায় যা লেখা, সেটিই মানুন।
- সিমেন্টের ব্যাগ ৫০ কেজি; আয়তন প্রায় ১.২৫ ঘনফুট।
- বালু: গাঁথুনি ও ঢালাইয়ে মোটা বালু (সিলেট বালু বা সমমানের), প্লাস্টারে সাধারণত মাঝারি/চিকন বালু ব্যবহার হয়। ভেজা বালু ফুলে যায়, তাই ঘনফুট মাপে কিছু কম-বেশি হয়।
- অপচয়: সাইটে ইট ভাঙে, মসলা পড়ে, জোড়া মোটা হয়; ৫–১০% ধরুন। ছাদ ঢালাই বা ভারবাহী কাঠামোর পরিমাণ প্রকৌশলীর নকশা অনুযায়ী ঠিক করুন।
বিস্তারিত: হিসাবটা কীভাবে কাজ করে
গাঁথুনির হিসাবে দেয়ালকে অনেকগুলো ছোট “মসলাসহ ইট” দিয়ে ভরা একটা বাক্স ধরা হয়। প্রতিটি ইট ৯.৫″ × ৪.৫″ × ২.৭৫″, আর তার চারপাশে আধা ইঞ্চি মসলা ধরলে প্রতিটি ব্লক ১০″ × ৫″ × ৩″, অর্থাৎ ১৫০ ঘন ইঞ্চি। এক ঘনফুটে ১,৭২৮ ঘন ইঞ্চি, তাই প্রতি ঘনফুট গাঁথুনিতে ১১.৫২টি ইট।
দেয়ালের মোট আয়তন থেকে ইটগুলোর নিজের আয়তন বাদ দিলে যা থাকে, সেটাই ভেজা মসলা। প্রতি ঘনফুট গাঁথুনিতে এটা প্রায় ০.২২ ঘনফুট।
শুকনো বালু-সিমেন্টে পানি মেশালে মিশ্রণ বসে যায়, আর মসলা ইটের খাঁজ ও অসমান জায়গাও ভরে। তাই শুকনো উপকরণ ভেজা মসলার চেয়ে বেশি লাগে। এখানে ১.৩৩ গুণ ধরা হয়েছে, যা দেশের প্রকৌশল হিসাবে প্রচলিত। কেউ ১.২৭ ধরে আলাদা অপচয় যোগ করেন; ফল কাছাকাছি আসে। ঢালাইয়ে খোয়ার ফাঁকও ভরতে হয়, তাই সেখানে ১.৫৪।
প্লাস্টারের বেলায় আরেকটা বিষয় আছে: ইটের দেয়াল পুরোপুরি সমান নয়, আর জোড়ার খাঁজও প্লাস্টারে ভরে যায়। তাই প্রাক্কলনের প্রচলিত নিয়মে প্লাস্টারের ভেজা আয়তনে ২০% যোগ করে তারপর ১.৩৩ দিয়ে গুণ করা হয়। দেয়াল খুব অসমান হলে অপচয় আরও কিছু বাড়িয়ে দিন।
এরপর অনুপাত অনুযায়ী ভাগ। ১:৬ মানে ৭ ভাগের ১ ভাগ সিমেন্ট, ৬ ভাগ বালু। সিমেন্টের ঘনফুটকে ১.২৫ দিয়ে ভাগ করলে ব্যাগ।
এই হিসাব কেনাকাটার ধারণা দেয়। ইটের আসল মাপ, জোড়ার পুরুত্ব, বালুর আর্দ্রতা আর মিস্ত্রির কাজের ধরন অনুযায়ী বাস্তবের পরিমাণ কিছুটা আলাদা হবে।