দাদনের আসল সুদ ক্যালকুলেটর

১০,০০০ টাকা দাদন নিয়ে ৪ মাস পর ১০ মণ ধান দিলে, মণপ্রতি ১,৩০০ টাকা বাজারদরে ধানের দাম ১৩,০০০ টাকা। মানে ৩,০০০ টাকা সুদ: মাসে ৭.৫%, বছরে ৯০%। একই টাকা কৃষিঋণে নিলে সুদ হতো প্রায় ২৬৭ টাকা।

৳

= ১০ হাজার টাকা

ধানের একক
মণ
৳

ধান যখন দেবেন, তখন বাজারে প্রতি মণ কত দামে বিক্রি হয় — উদাহরণের দাম নিজে বদলে নিন

মাস
% / বছর

বছরে আসল সুদ (সরল)

৯০%

মাসে ৭.৫%

ধানের পরিমাণ
১০ মণ (৩৭৩.২ কেজি)
দেওয়া ধানের দাম
৳১৩,০০০
আসলে সুদ (টাকায়)
৳৩,০০০
মাসিক হার
৭.৫%
চক্রবৃদ্ধি ধরলে বছরে
১১৯.৭%
একই টাকা কৃষিঋণে নিলে সুদ
৳২৬৭
দাদনে বেশি দিচ্ছেন
৳২,৭৩৩
সুদ শূন্য হতো যে দামে
৳১,০০০ / মণ

৳১০,০০০ দাদন নিয়ে ৪ মাস পর ১০ মণ (৩৭৩.২ কেজি) ধান (বাজারদরে ৳১৩,০০০) দিলে আসলে ৳৩,০০০ সুদ দিচ্ছেন — বছরে প্রায় ৯০%। একই টাকা কৃষিঋণে নিলে সুদ হতো ৳২৬৭।

কীভাবে হিসাব হলো
  1. ধানের দাম = ১০ মণ × ৳১,৩০০ = ৳১৩,০০০
  2. সুদ = ৳১৩,০০০ − ৳১০,০০০ = ৳৩,০০০
  3. মাসিক হার = ৳৩,০০০ ÷ ৳১০,০০০ ÷ ৪ মাস = ৭.৫%
  4. বার্ষিক সরল হার = ৭.৫% × ১২ = ৯০%
  5. কৃষিঋণে: ৳১০,০০০ × ৮% × ৪ ÷ ১২ = ৳২৬৭

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  1. দাদনে কত টাকা নিয়েছেন লিখুন।
  2. ফসল তোলার পর কত ধান দিতে হবে লিখুন, মণে বা কেজিতে।
  3. ধান দেওয়ার সময় বাজারে প্রতি মণ ধানের দাম কত, লিখুন। উদাহরণের দাম নিজে বদলে নিন।
  4. কত মাস পর শোধ করবেন লিখুন। চাইলে তুলনার জন্য কৃষিঋণের হার বদলান।

সূত্র

  • ধানের দাম = ধানের পরিমাণ (মণ) × প্রতি মণের বাজারদর (১ মণ = ৩৭.৩২৪২ কেজি)
  • আসল সুদ = ধানের দাম − দাদনে নেওয়া টাকা
  • মাসিক হার = সুদ ÷ নেওয়া টাকা ÷ মাস; বার্ষিক সরল হার = মাসিক হার × ১২
  • কৃষিঋণে সুদ = নেওয়া টাকা × বার্ষিক হার × মাস ÷ ১২

উদাহরণ

দাদন শোধ সময় সুদ বছরে আসলে
১০,০০০ ১০ মণ × ১,৩০০ = ১৩,০০০ ৪ মাস ৩,০০০ ৯০%
১,০০০ ১,৫০০ টাকার ধান ৮ মাস ৫০০ ৭৫%

যা জানা দরকার

  • ধানের দাম নিজে দিন: দাম মৌসুম আর এলাকাভেদে বদলায়। ধান দেওয়ার সময়ের বাজারদর দিলে আসল খরচ বোঝা যায়।
  • বিকল্প: ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক ও নিবন্ধিত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের কৃষিঋণে হার অনেক কম। জাতীয় পরিচয়পত্র আর জমির কাগজ নিয়ে কাছের শাখায় খোঁজ নিন।
  • লিখিত রাখুন: কত টাকা নিলেন, কত ধান দিতে হবে আর কবে — চুক্তি লিখিত রাখুন।
বিস্তারিত: দাদনে সুদ কেন চোখে পড়ে না

দাদনে সাধারণত “সুদ” শব্দটা বলা হয় না: টাকা নেন, পরে ধান দেন। কিন্তু যে ধান দিচ্ছেন তার বাজারদাম নেওয়া টাকার চেয়ে বেশি হলে পার্থক্যটাই সুদ। আর সময় যেহেতু কয়েক মাস, বছরের হিসাবে সেই হার অনেক বড় হয়ে যায়।

অনেকে ধর্মীয় কারণে সুদ এড়িয়ে চলেন। এই ক্যালকুলেটর কোনো ঋণকে উৎসাহ দেয় না, শুধু আসল খরচটা পরিষ্কার দেখায়।

সাধারণ প্রশ্ন

দাদন কী?

ফসল ওঠার আগে নগদ টাকা নিয়ে পরে ফসল (বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ধান) দিয়ে শোধ করার চুক্তিকে দাদন বলে। ধানের দাম বাজারদরের চেয়ে কম ধরা হয় বা বেশি ধান দিতে হয় — তাতেই লুকানো সুদ থাকে।

দাদনে সুদ কত পড়ে?

যে ধান দিচ্ছেন তার বাজারদাম থেকে নেওয়া টাকা বাদ দিলে আসল সুদ। খবরে এসেছে, হাওর এলাকায় হাজারে ৮ মাসে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভ নেওয়া হয়, যা বছরে প্রায় ৭৫%।

কৃষিঋণে সুদ কত?

বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে ব্যাংক কৃষকদের সর্বোচ্চ ৮% সরল সুদে ঋণ দিতে পারে। অন্য স্কিমে হার মোটামুটি ৪-৯%। কাছের ব্যাংক বা কৃষি ব্যাংকে খোঁজ নিন।

ধানের দাম বেশি হলে কী হয়?

ধানের দাম যত বেশি, একই পরিমাণ ধানে তত বেশি টাকা দিচ্ছেন, তাই আসল সুদও বাড়ে। ক্যালকুলেটরে 'সুদ শূন্য হতো যে দামে' দেখায় কোন দামে আপনি শুধু আসল ফেরত দিতেন।

মহাজন ধানের দাম কম ধরলে কীভাবে হিসাব করব?

মহাজন যে দাম ধরছেন তা নয়, ধান দেওয়ার সময়ের বাজারদর দিন। যেমন ১০,০০০ টাকা দাদনে মণপ্রতি ৮০০ টাকা ধরে ১২.৫ মণ ধান চাইলে, বাজারে ১,৩০০ টাকা মণ হলে সেই ধানের দাম ১৬,২৫০ টাকা। ৪ মাসে সুদ ৬,২৫০ টাকা, মাসে ১৫.৬২৫%, বছরে ১৮৭.৫%।

কেজিতে ধান দিলে কীভাবে হিসাব হয়?

এককের ঘরে কেজি বাছুন। ক্যালকুলেটর ১ মণ = ৩৭.৩২৪২ কেজি (৪০ সের) ধরে মণে বদলে নেয়। এলাকায় মণ ৪০ কেজি ধরা হলে সেভাবে মণের সংখ্যা লিখুন।

এই নামেও খোঁজেন

দাদন কী · দাদনের সুদ · দাদন হিসাব · ধানে ঋণ শোধ · dadon hisab · crop advance loan interest