মুরাবাহা / বাই-মুয়াজ্জাল ক্যালকুলেটর

৳৩ লাখের পণ্য বছরে ১০% লাভে ১২ মাসের কিস্তিতে নিলে বিক্রয়মূল্য ৳৩,৩০,০০০, মাসিক কিস্তি ৳২৭,৫০০; বকেয়া টাকার ওপর তা বছরে প্রায় ১৭.৯৭% হারের সমান। নিচে আপনার অঙ্ক দিয়ে দেখুন।

৳

= ৩ লাখ টাকা

%
লাভের হার কিসের ওপর
মাস

= ১ বছর

কীভাবে পরিশোধ

মাসিক কিস্তি

৳২৭,৫০০

১২টি কিস্তি

ক্রয়মূল্য
৳৩,০০,০০০
ব্যাংকের লাভ
৳৩০,০০০
বিক্রয়মূল্য (মোট পরিশোধ)
৳৩,৩০,০০০
সমতুল্য বার্ষিক হার
১৭.৯৭%
কার্যকর বার্ষিক হার
১৯.৫৩%

৳৩,০০,০০০ দামের পণ্য ১০% লাভে ১ বছর কিস্তিতে নিলে বিক্রয়মূল্য ৳৩,৩০,০০০, মাসিক কিস্তি ৳২৭,৫০০; বকেয়া টাকার ওপর এটি বছরে প্রায় ১৭.৯৭% হারের সমান।

মুরাবাহায় ব্যাংক পণ্য কিনে লাভসহ নির্দিষ্ট দামে আপনার কাছে বিক্রি করে; দাম চুক্তির সময়েই ঠিক হয়ে যায়। সমতুল্য হার শুধু তুলনার জন্য — এটি সুদের হার নয়। ব্যাংকভেদে নিয়ম ও ফি আলাদা।

কীভাবে হিসাব হলো
  1. লাভ = ৳৩,০০,০০০ × ১০% × ১ (বছরের ভগ্নাংশ) = ৳৩০,০০০
  2. বিক্রয়মূল্য = ৳৩,০০,০০০ + ৳৩০,০০০ = ৳৩,৩০,০০০
  3. মাসিক কিস্তি = ৳৩,৩০,০০০ ÷ ১২ = ৳২৭,৫০০
  4. লাভ পুরো ক্রয়মূল্যের ওপর ধরা হয়, অথচ কিস্তিতে বকেয়া কমতে থাকে; তাই বকেয়ার ওপর সমতুল্য হার বছরে প্রায় ১৭.৯৭%

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  1. পণ্যের ক্রয়মূল্য লিখুন (ব্যাংক যে দামে কিনবে)।
  2. ব্যাংকের লাভের হার দিন, আর তা বছরপ্রতি না পুরো মেয়াদে মোট — বাছুন।
  3. মেয়াদ বাছুন, আর মাসিক কিস্তি (মুরাবাহা) না মেয়াদশেষে একবারে (বাই-মুয়াজ্জাল) পরিশোধ — বাছুন।
  4. বিক্রয়মূল্য, কিস্তি আর তুলনার জন্য সমতুল্য বার্ষিক হার দেখুন।

হিসাবের নিয়ম

  • লাভ = ক্রয়মূল্য × লাভের হার (বছরপ্রতি হলে × মেয়াদ বছরে)
  • বিক্রয়মূল্য = ক্রয়মূল্য + লাভ
  • মাসিক কিস্তি = বিক্রয়মূল্য ÷ কিস্তির সংখ্যা; বাই-মুয়াজ্জালে মেয়াদশেষে একবারে পুরো বিক্রয়মূল্য
  • সমতুল্য বার্ষিক হার: কিস্তির টাকার প্রবাহ থেকে (IRR পদ্ধতিতে) বের করা হয়, শুধু তুলনার জন্য

উদাহরণ

ক্রয়মূল্য লাভ মেয়াদ পরিশোধ বিক্রয়মূল্য কিস্তি সমতুল্য বার্ষিক হার
৳৩,০০,০০০ বছরে ১০% ১২ মাস মাসিক ৳৩,৩০,০০০ ৳২৭,৫০০ প্রায় ১৭.৯৭%
৳২,০০,০০০ বছরে ১০% ২৪ মাস মাসিক ৳২,৪০,০০০ ৳১০,০০০ প্রায় ১৮.১৬%
৳১,০০,০০০ মোট ১০% ১২ মাস একবারে ৳১,১০,০০০ ৳১,১০,০০০ ১০%

একবারে শোধ করলে পুরো টাকা পুরো সময় বকেয়া থাকে, তাই ১২ মাসে মোট ১০% লাভ বছরে ঠিক ১০%-এর সমান। কিস্তিতে শোধ করলে বকেয়া কমতে থাকে বলে সমতুল্য হার প্রায় দ্বিগুণ দাঁড়ায়।

বাংলাদেশে যা জানা দরকার

  • ব্যবহার: ইসলামি ব্যাংকগুলো ব্যবসার পণ্য, যন্ত্রপাতি বা ভোক্তা পণ্য কেনায় মুরাবাহা ব্যবহার করে; বাই-মুয়াজ্জাল ব্যবসায়ীদের বাকিতে কেনায় প্রচলিত।
  • লাভের হার ব্যাংকভেদে আলাদা: ক্যালকুলেটরে বসানো ১০% শুধু উদাহরণ — আপনার ব্যাংকের অফার লিখুন।
  • অন্যান্য খরচ: প্রসেসিং ফি, বিমা বা ডকুমেন্টেশন খরচ আলাদা।
বিস্তারিত: মুরাবাহা আর সাধারণ ঋণের পার্থক্য

সাধারণ ঋণে টাকা ধার দেওয়া হয় আর সময়ের সঙ্গে সুদ বাড়ে। মুরাবাহায় ব্যাংক আগে পণ্যের মালিক হয়, তারপর লাভে বিক্রি করে; দাম একবার ঠিক হলে আর বদলায় না, দেরি হলেও না। ইসলামি অর্থনীতিতে এই কাঠামোগত পার্থক্যই মূল কথা। অঙ্কের দিক থেকে তুলনার সুবিধার জন্য এখানে সমতুল্য বার্ষিক হার দেখানো হয়েছে।

সাধারণ প্রশ্ন

মুরাবাহা কী?

মুরাবাহা হলো লাভে বিক্রি: ব্যাংক আপনার চাওয়া পণ্য নিজে কিনে ক্রয়মূল্য আর নির্দিষ্ট লাভ জানিয়ে আপনার কাছে বিক্রি করে। দাম চুক্তির সময়েই ঠিক হয়, পরে আর বাড়ে না। কিস্তিতে শোধ করলে একে মুরাবাহা, একবারে পরে শোধ করলে সাধারণত বাই-মুয়াজ্জাল বলা হয়।

সমতুল্য বার্ষিক হার কেন ঘোষিত হারের চেয়ে বেশি?

লাভ পুরো ক্রয়মূল্যের ওপর ধরা হয়, অথচ কিস্তি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার বকেয়া কমতে থাকে। বকেয়া টাকার হিসাবে তুলনা করলে হার প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি দাঁড়ায়। এটি শুধু অন্য অফারের সঙ্গে তুলনার জন্য।

দেরিতে কিস্তি দিলে কি দাম বাড়ে?

না, মুরাবাহায় বিক্রয়মূল্য স্থির। তবে অনেক ব্যাংক দেরির জন্য দান-তহবিলে জরিমানা নেয়, যা ব্যাংকের আয় হিসেবে ধরা হয় না। নিয়ম চুক্তিতে দেখুন।

আগেভাগে শোধ করলে কি ছাড় পাব?

দাম চুক্তিতে স্থির থাকায় ছাড় বাধ্যতামূলক নয়, তবে অনেক ব্যাংক স্বেচ্ছায় ছাড় (ইবরা) দেয়। আপনার ব্যাংকের নীতি জেনে নিন।

লাভের হার 'বছরপ্রতি' আর 'পুরো মেয়াদে মোট' — পার্থক্য কী?

বছরপ্রতি ১০% মানে ২ বছরের মেয়াদে লাভ ক্রয়মূল্যের ২০%; পুরো মেয়াদে মোট ১০% মানে মেয়াদ যত বছরই হোক লাভ ১০%। ব্যাংকের অফারে কোনটি বলা আছে মিলিয়ে বাছুন — নইলে বিক্রয়মূল্য অনেক ভুল আসবে।

এই নামেও খোঁজেন

মুরাবাহা হিসাব · বাই মুয়াজ্জাল ক্যালকুলেটর · ইসলামী ব্যাংক বিনিয়োগ কিস্তি · murabaha calculator · bai muajjal