২০২৬-২৭ করবর্ষে (আয়বর্ষ ২০২৫-২৬) সাধারণ করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৳৪,০০,০০০। এর ওপরের আয়ে ধাপে ধাপে ১০% থেকে ৩০% কর বসে। যেমন বছরে ৳৯ লাখ বেতন আর ৳১ লাখ বিনিয়োগ থাকলে আয়কর দাঁড়ায় ৳১০,০০০, মাসে প্রায় ৳৮৩৩।
আয়বর্ষ
একাধিক প্রযোজ্য হলে যেটিতে করমুক্ত সীমা বেশি সেটি বাছুন
৳
= ৯ লাখ টাকা
৳
ব্যবসা, বাড়িভাড়া, সুদ ইত্যাদি — না থাকলে ০
৳
= ১ লাখ টাকা
আরও তথ্য (ঐচ্ছিক)
৳
বেতন, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক সুদ থেকে কেটে রাখা কর
জন
মা-বাবা বা অভিভাবক হিসেবে প্রতিজনের জন্য করমুক্ত সীমা ৳৫০,০০০ বাড়ে (একজন করদাতা নিতে পারবেন)
বছরে মোট আয়কর
৳১০,০০০
মাসে প্রায় ৳৮৩৩
করযোগ্য আয়
৳৬,০০,০০০
করমুক্ত সীমা
৳৪,০০,০০০
রেয়াতের আগে কর
৳২০,০০০
বিনিয়োগ রেয়াত
− ৳১০,০০০
কার্যকর করহার
১.১১%
আয়বর্ষ ২০২৫-২৬-এ আপনার মোট আয়কর ৳১০,০০০, অর্থাৎ মাসে প্রায় ৳৮৩৩।
এই হারের কিছু অংশ এখনো যাচাই চলছে — চূড়ান্ত রিটার্নের আগে NBR-এর নির্দেশিকা দেখে নিন।
কীভাবে হিসাব হলো
বেতনের ছাড়: বেতনের এক-তৃতীয়াংশ বা ৳৫,০০,০০০ — যেটি কম = ৳৩,০০,০০০
আয়বর্ষ বাছুন। এখন যে রিটার্ন জমা দিচ্ছেন সেটি আয়বর্ষ ২০২৫-২৬ (করবর্ষ ২০২৬-২৭)।
করদাতার ধরন বাছুন: সাধারণ, নারী বা ৬৫ বছরের বেশি, প্রতিবন্ধী বা তৃতীয় লিঙ্গ, অথবা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বা জুলাই যোদ্ধা।
বছরের মোট বেতন লিখুন। ‘৯ লাখ’ বা ‘9L’ লিখলেও চলবে। অন্য আয় থাকলে সেটিও দিন।
সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, জীবনবিমা ইত্যাদিতে বছরে কত বিনিয়োগ করেছেন লিখুন। রেয়াত নিজে থেকেই হিসাব হবে।
চাইলে ‘আরও তথ্য’ খুলে উৎসে কাটা কর, রিটার্ন জমার সময় ও নতুন করদাতা কি না দিন। ফলাফলে বছরের ও মাসের কর, আর স্ল্যাব অনুযায়ী পুরো হিসাব দেখবেন।
আয়কর হিসাবের নিয়ম
আয়কর হিসাব হয় চার ধাপে:
করযোগ্য আয়: বছরের মোট বেতন থেকে বেতনের ছাড় বাদ দিন। ছাড় হলো বেতনের এক-তৃতীয়াংশ অথবা ৳৫,০০,০০০, যেটি কম। এর সঙ্গে ব্যবসা, বাড়িভাড়া বা অন্য আয় যোগ করুন।
রেয়াত: ৳৭৫,০০০, ৳৫০,০০০ আর ৳৭,৫০,০০০-এর মধ্যে সবচেয়ে কম = ৳৫০,০০০
মোট আয়কর ৳৩,৬৫,০০০
বাংলাদেশে যা জানা দরকার
করবর্ষ আর আয়বর্ষ: জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত আয় হলো আয়বর্ষ ২০২৫-২৬। এর রিটার্ন জমা হয় করবর্ষ ২০২৬-২৭-এ। খবরে ‘২০২৬-২৭’ বললে সাধারণত করবর্ষ বোঝায়।
সারা বছর রিটার্ন: অর্থ আইন ২০২৬ থেকে সারা বছর রিটার্ন জমা দেওয়া যায়। তবে কখন জমা দিচ্ছেন তার ওপর রেয়াত বা অতিরিক্ত কর নির্ভর করে। ক্যালকুলেটরের ‘রিটার্ন জমার সময়’ বেছে সেটি দেখে নিতে পারবেন।
রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগ: জীবনবিমার প্রিমিয়াম, প্রভিডেন্ট ফান্ডে চাঁদা, ডিপিএস (বছরে সর্বোচ্চ ৳১,২০,০০০), সঞ্চয়পত্র ও সরকারি বন্ড, তালিকাভুক্ত শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে দান ইত্যাদি। প্রতিটির নিজস্ব সীমা থাকতে পারে।
যা এই ক্যালকুলেটরে নেই: সম্পদের ওপর সারচার্জ (নিট সম্পদ ৳৪ কোটির বেশি হলে), গাড়ির পরিবেশ সারচার্জ, শেয়ারের মুনাফার মতো হ্রাসকৃত হারের আয় এবং ব্যবসার আলাদা নিয়ম। এগুলো থাকলে কর আইনজীবী বা NBR-এর নির্দেশিকার সাহায্য নিন।
বিস্তারিত: বেতনের ছাড়, রেয়াত আর ন্যূনতম কর কেন জরুরি
বেতনের ছাড় কেন এত বড় ব্যাপার। ২০২৩ সালের আয়কর আইনে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতার আলাদা ছাড়ের বদলে একটিমাত্র ছাড় দেওয়া হয়েছে: মোট বেতনের এক-তৃতীয়াংশ, সর্বোচ্চ ৳৫ লাখ। তাই মাসে ৳৫০,০০০ পর্যন্ত বেতনে একজন সাধারণ করদাতার করযোগ্য আয় করমুক্ত সীমা পেরোয় না।
রেয়াত কীভাবে সর্বোচ্চ পাবেন। রেয়াত করযোগ্য আয়ের ৩%-এর বেশি হতে পারে না। তাই আয়ের ৩০%-এর বেশি বিনিয়োগ করলে বাড়তি অংশে আর রেয়াত বাড়ে না। যেমন ৳৬ লাখ করযোগ্য আয়ে সর্বোচ্চ রেয়াত ৳১৮,০০০, আর সেটি পেতে ৳১,৮০,০০০ বিনিয়োগই যথেষ্ট।
ন্যূনতম কর। করমুক্ত সীমার সামান্য ওপরে আয় হলে স্ল্যাবে হিসাব করা কর অনেক কম আসতে পারে, যেমন ৳১,০০০। কিন্তু সীমা পেরোলেই কমপক্ষে ৳৫,০০০ দিতে হয়। আবার বিনিয়োগ রেয়াত দিয়ে করকে ন্যূনতম করের নিচে নামানো যায় না।
উৎসে কাটা কর। বেতন, ব্যাংকের সুদ বা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে যে কর আগেই কেটে রাখা হয়েছে, রিটার্নে তা মোট কর থেকে বাদ যায়। ‘আরও তথ্য’ অংশে সেই অঙ্ক দিলে আর কত দিতে হবে, নাকি কিছু ফেরত পাবেন, তা দেখাবে।
সাধারণ প্রশ্ন
২০২৬-২৭ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা কত?
অর্থ আইন ২০২৬ অনুযায়ী সাধারণ করদাতার করমুক্ত সীমা ৳৪,০০,০০০। নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ৳৪,৫০,০০০, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের ৳৫,২৫,০০০, আর গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের ৳৫,৫০,০০০। প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের মা-বাবা/অভিভাবক আরও ৳৫০,০০০ বেশি ছাড় পান। বাজেটে প্রথমে ৳৩.৭৫ লাখ প্রস্তাব করা হয়েছিল, সংসদে পাসের সময় তা ৳৪ লাখ করা হয়।
কত টাকা বেতন হলে ট্যাক্স দিতে হয়?
বেতনের এক-তৃতীয়াংশ (সর্বোচ্চ ৳৫ লাখ) করমুক্ত। তাই শুধু বেতন থেকে আয় থাকলে সাধারণ করদাতার বছরে ৳৬ লাখের বেশি, অর্থাৎ মাসে ৳৫০,০০০-এর বেশি বেতন হলে কর দিতে হয়। নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এই সীমা বছরে ৳৬,৭৫,০০০, মাসে ৳৫৬,২৫০। অন্য আয় থাকলে সীমা আরও কম হবে।
আয়কর কীভাবে হিসাব করা হয়? স্ল্যাব কী কী?
প্রথমে বেতনের ছাড় বাদ দিয়ে করযোগ্য আয় বের করা হয়। করমুক্ত সীমার পরের প্রথম ৳৩ লাখে ১০%, পরের ৳৪ লাখে ১৫%, পরের ৳৫ লাখে ২০%, পরের ৳২০ লাখে ২৫% আর বাকি আয়ে ৩০% কর বসে। ২০২৬-২৭ থেকে আগের ৫% ধাপটি আর নেই। তারপর বিনিয়োগ রেয়াত বাদ যায়।
বিনিয়োগ করলে কত টাকা কর রেয়াত পাওয়া যায়?
রেয়াত হলো তিনটি অঙ্কের মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম: করযোগ্য আয়ের ৩%, প্রকৃত রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের ১০%, অথবা ৳৭,৫০,০০০। অর্থ আইন ২০২৬-এ বিনিয়োগের অংশ ১৫% থেকে ১০% এবং সর্বোচ্চ সীমা ৳১০ লাখ থেকে ৳৭.৫ লাখে নামানো হয়েছে। যেমন ৳৬ লাখ করযোগ্য আয় আর ৳১ লাখ বিনিয়োগে রেয়াত ৳১০,০০০।
ন্যূনতম কর কত?
করযোগ্য আয় করমুক্ত সীমা পেরোলে কমপক্ষে ৳৫,০০০ কর দিতে হয়। ২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে এই অঙ্ক সব এলাকায় একই, আগের মতো সিটি কর্পোরেশন অনুযায়ী আলাদা নয়। যাঁরা প্রথমবার রিটার্ন দিচ্ছেন, তাঁদের ন্যূনতম কর ৳১,০০০।
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ কবে?
অর্থ আইন ২০২৬ অনুযায়ী এখন সারা বছর রিটার্ন জমা দেওয়া যায়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে জমা দিলে করের ৫% (সর্বোচ্চ ৳২৫,০০০) রেয়াত মেলে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে কোনো রেয়াত বা জরিমানা নেই। জানুয়ারি থেকে মার্চে করের ২% বা ৳৩,০০০ (যেটি বেশি), আর এপ্রিল থেকে জুনে ৫% বা ৳৫,০০০ (যেটি বেশি) অতিরিক্ত কর দিতে হয়। ৩০ জুনের পরে জমা দিলে আরও বেশি অতিরিক্ত কর লাগে।
মাসিক বেতন থেকে কত টাকা উৎসে কর কাটা হয়?
নিয়োগকর্তা আপনার বছরের সম্ভাব্য মোট কর হিসাব করে সেটি ১২ মাসে ভাগ করে প্রতি মাসে কেটে রাখেন। এই ক্যালকুলেটরের ‘মাসে প্রায়’ অঙ্কটি সেই মাসিক কর্তনের কাছাকাছি। বছর শেষে রিটার্নে কাটা কর সমন্বয় হয়।
রিটার্ন জমা না দিলে কী হয়?
রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হলে সময়মতো জমা না দিলে অতিরিক্ত কর ও জরিমানা লাগতে পারে। অনেক সেবা নিতে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র (PSR) লাগে, যেমন বড় অঙ্কের সঞ্চয়পত্র কেনা বা কিছু ঋণ নেওয়া। তাই আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলেও প্রযোজ্য হলে রিটার্ন দেওয়াই ভালো।
এই নামেও খোঁজেন
আয়কর হিসাব ক্যালকুলেটর বাংলাদেশ · ইনকাম ট্যাক্স ক্যালকুলেটর বাংলাদেশ · বেতনের উপর ট্যাক্স হিসাব · করমুক্ত আয়সীমা ২০২৬-২৭ · আয়কর স্ল্যাব ২০২৬-২৭ · tax hisab bd · income tax calculator bd