মাসে ৳৬০,০০০ বেতন (বেসিক ৳৩৬,০০০, বছরে দুটি উৎসব ভাতা) হলে বছরে আয়কর প্রায় ৳১২,৮০০, মাসে উৎসে কর প্রায় ৳১,০৬৭, আর হাতে পাবেন প্রায় ৳৫৮,৯৩৩। নিচে নিজের বেতন দিয়ে দেখুন।
বেতন কীভাবে দেবেন
৳
= ৬০ হাজার টাকা
৳
= ৩৬ হাজার টাকা
উৎসব ভাতা আর প্রভিডেন্ট ফান্ড বেসিক থেকে হিসাব হয়
৳
= ১৮ হাজার টাকা
৳
= ৩ হাজার টাকা
৳
= ৩ হাজার টাকা
৳
টি (প্রতিটি = এক মাসের বেসিক)
আরও তথ্য (ঐচ্ছিক)
% বেসিকের
৳
ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র, জীবনবিমা ইত্যাদি — না থাকলে ০
মাসে হাতে পাবেন
৳৫৮,৯৩৩
মাসিক মোট বেতন ৳৬০,০০০ থেকে
মাসে উৎসে কর (আনুমানিক)
৳১,০৬৭
বছরে মোট বেতন (ভাতাসহ)
৳৭,৯২,০০০
করমুক্ত অংশ
৳২,৬৪,০০০
করযোগ্য আয়
৳৫,২৮,০০০
বছরে মোট আয়কর
৳১২,৮০০
উৎসব ভাতার মাসে বাড়তি
৳৩৬,০০০
মাসে ৳৬০,০০০ বেতনে আনুমানিক ৳১,০৬৭ আয়কর কাটার পর হাতে পাবেন ৳৫৮,৯৩৩। বছরে মোট আয়কর ৳১২,৮০০।
এটি আনুমানিক হিসাব। নিয়োগকর্তা বছরের মোট কর মাসে মাসে ভাগ করে কাটেন; বছরের মাঝখানে বেতন বদলালে বা বিনিয়োগের প্রমাণ দিলে মাসিক কর্তন বদলায়। নিয়োগকর্তার প্রভিডেন্ট ফান্ড অংশ, গাড়ি-বাসা সুবিধা ইত্যাদি এখানে ধরা হয়নি।
কীভাবে হিসাব হলো
বছরে বেতন = মাসিক ৳৬০,০০০ × ১২ + উৎসব ভাতা ৳৭২,০০০ = ৳৭,৯২,০০০
করমুক্ত অংশ = বছরের বেতনের ⅓ বা ৳৫ লাখ, যেটি কম = ৳২,৬৪,০০০
মাসিক উৎসে কর ≈ বছরের আয়কর ÷ ১২। হাতে পাবেন = মাসিক বেতন − মাসিক কর − প্রভিডেন্ট ফান্ড।
আয়করের স্ল্যাব (আয়বর্ষ ২০২৬-২৭)
করযোগ্য আয়
হার
প্রথম ৳৪,০০,০০০ (সাধারণ করদাতা)
০%
পরবর্তী ৳৩,০০,০০০
১০%
পরবর্তী ৳৪,০০,০০০
১৫%
পরবর্তী ৳৫,০০,০০০
২০%
পরবর্তী ৳২০,০০,০০০
২৫%
বাকি আয়
৩০%
উদাহরণ
মাসে ৳৬০,০০০ বেতন, বেসিক ৳৩৬,০০০, বছরে দুটি উৎসব ভাতা:
বছরের বেতন ৳৭,৯২,০০০; করমুক্ত অংশ ৳২,৬৪,০০০; করযোগ্য আয় ৳৫,২৮,০০০।
৳৪ লাখের ওপরের ৳১,২৮,০০০-এ ১০% = বছরে ৳১২,৮০০ আয়কর।
মাসে উৎসে কর প্রায় ৳১,০৬৭; হাতে পাবেন প্রায় ৳৫৮,৯৩৩।
বিস্তারিত: রিটার্ন আর উৎসে কর
নিয়োগকর্তা মাসে মাসে যে কর কাটেন তা আপনার নামে জমা হয়। বছর শেষে রিটার্ন দেওয়ার সময় এই কাটা কর সমন্বয় হয়; বেশি কাটা হলে ফেরত বা পরের বছরে সমন্বয়, কম হলে বাকিটা দিতে হয়। পুরো বছরের হিসাব, বিনিয়োগ রেয়াত আর রিটার্ন জমার সময়ের রেয়াত দেখতে আয়কর ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।
সাধারণ প্রশ্ন
বেতন থেকে কত কর কাটবে?
বছরের মোট বেতন (ভাতা ও বোনাসসহ) থেকে করমুক্ত অংশ বাদ দিয়ে করযোগ্য আয় বের হয়। তার ওপর স্ল্যাব অনুযায়ী আয়কর হয়, বিনিয়োগ রেয়াত বাদ যায়। নিয়োগকর্তা বছরের এই করকে ১২ ভাগ করে মাসে মাসে উৎসে কর হিসেবে কাটেন।
বেতনের কতটুকু করমুক্ত?
অর্থ আইন ২০২৬ অনুযায়ী বেতন থেকে আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা ৳৫ লাখ, যেটি কম, করমুক্ত। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ভাতা আলাদাভাবে করমুক্ত নয়, সব মিলিয়ে এই একটি সীমা।
কত টাকা বেতন হলে আয়কর দিতে হয়?
সাধারণ করদাতার করমুক্ত সীমা বছরে ৳৪ লাখ (করযোগ্য আয়)। বেতনের এক-তৃতীয়াংশ করমুক্ত বলে বছরে প্রায় ৳৬ লাখ পর্যন্ত বেতনে সাধারণত কর লাগে না, অর্থাৎ মাসে প্রায় ৳৫০,০০০ (উৎসব ভাতাসহ হিসাব করলে কিছুটা কম)। নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের সীমা ৳৪.৫ লাখ।
প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কি করে ছাড় পায়?
স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ডে আপনার জমা রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগ। বিনিয়োগের ১০%, করযোগ্য আয়ের ৩% বা ৳৭.৫ লাখ, যেটি সবচেয়ে কম, তত টাকা কর কমে। এই ক্যালকুলেটর আপনার প্রভিডেন্ট ফান্ড অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনিয়োগে ধরে।
ন্যূনতম কর কত?
করযোগ্য আয় করমুক্ত সীমা ছাড়ালে অন্তত ৳৫,০০০ আয়কর দিতে হয়, এলাকা যা-ই হোক। প্রথমবার রিটার্ন দিলে ন্যূনতম কর ৳১,০০০।
এই হিসাব কি আমার স্যালারি স্লিপের সঙ্গে হুবহু মিলবে?
কাছাকাছি মিলবে। নিয়োগকর্তা বছরের মাঝখানে বেতন বাড়লে, বিনিয়োগের প্রমাণ দিলে বা বোনাসের মাসে কর্তন সমন্বয় করেন। নিয়োগকর্তার প্রভিডেন্ট ফান্ড অংশ, গাড়ি বা বাসার সুবিধা এখানে ধরা হয়নি।