জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত: মেয়াদপূর্তিতে ১১.৭৭% থেকে ১১.৯৮%। যেমন পরিবার সঞ্চয়পত্রে ৳৫ লাখ রাখলে ৫% উৎসে কর কাটার পরে প্রতি মাসে হাতে পাবেন প্রায় ৳৪,৭২২।
সঞ্চয়পত্রের ধরন
কেনা যাবে: ১৮ বছরের বেশি নারী, যেকোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ৬৫ বছরের বেশি নারী-পুরুষ
৳
= ৫ লাখ টাকা
আরও তথ্য (ঐচ্ছিক)
৳
এটি ৳৫ লাখের বেশি হলে উৎসে কর ১০%। খালি রাখলে শুধু ওপরের অঙ্ক ধরা হবে।
প্রতি মাসে হাতে পাবেন
৳৪,৭২২
৬০টি মাসিক কিস্তিতে
মুনাফার হার (মেয়াদপূর্তিতে)
১১.৯৩%
প্রতি কিস্তিতে মুনাফা (করের আগে)
৳৪,৯৭১
উৎসে কর (৫%)
− ৳২৪৯
পুরো মেয়াদে মোট মুনাফা (করের পরে)
৳২,৮৩,৩৩৮
মেয়াদ শেষে মোট পাবেন (আসল + মুনাফা)
৳৭,৮৩,৩৩৮
গড়ে মাসে
৳৪,৭২২
৳৫,০০,০০০ পরিবার সঞ্চয়পত্র (৫ বছর, মাসিক মুনাফা)-এ রাখলে প্রতি মাসে ৳৪,৭২২ হাতে পাবেন।
হার হালনাগাদ: জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদের হার (যাচাই ০৩/১০/২০২৬)। কেনার দিনের হার পুরো মেয়াদে বহাল থাকে।
বিনিয়োগ-সীমার কিছু তথ্য এখনো যাচাই চলছে — কেনার আগে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর বা ব্যাংক থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
কীভাবে হিসাব হলো
সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের হার: ১১.৯৩%
বছরে মুনাফা = ৳৫,০০,০০০ × ১১.৯৩% = ৳৫৯,৬৫০
৫ বছরে মোট মুনাফা = ৳২,৯৮,২৫০
৬০টি কিস্তিতে ভাগ করলে প্রতি কিস্তিতে ৳৪,৯৭১
উৎসে কর ৫% (মোট বিনিয়োগ ৳৫ লাখ পর্যন্ত) = ৳২৪৯
করের পরে হাতে পাবেন ৳৪,৭২২
মেয়াদের আগে ভাঙালে কত পাবেন
ভাঙানোর সময়
হার
মোট মুনাফা (করের আগে)
করের পরে
১ বছর পর
৯.৮১%
৳৪৯,০৫০
৳৪৬,৫৯৮
২ বছর পর
১০.২৯%
৳১,০২,৯০০
৳৯৭,৭৫৫
৩ বছর পর
১০.৮%
৳১,৬২,০০০
৳১,৫৩,৯০০
৪ বছর পর
১১.৩৫%
৳২,২৭,০০০
৳২,১৫,৬৫০
৫ বছর (মেয়াদপূর্তি)
১১.৯৩%
৳২,৯৮,২৫০
৳২,৮৩,৩৩৮
কেনার ১ বছরের মধ্যে ভাঙালে সাধারণত কোনো মুনাফা দেওয়া হয় না। মাসিক বা ত্রৈমাসিক মুনাফা আগেই নিয়ে থাকলে ভাঙানোর সময় বাড়তি অংশ আসল থেকে কেটে রাখা হয়।
পরিবার সঞ্চয়পত্র: বছরের মুনাফা ১২ ভাগ করে প্রতি মাসে দেওয়া হয়।
৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র: বছরের মুনাফা ৪ ভাগ করে প্রতি ৩ মাসে দেওয়া হয়।
৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র: পুরো ৫ বছরের মুনাফা মেয়াদ শেষে একসঙ্গে দেওয়া হয়।
মুনাফার হার: জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ (মেয়াদপূর্তিতে)
সঞ্চয়পত্র
মেয়াদ
মুনাফা পাবেন
৳৭.৫ লাখ পর্যন্ত
৳৭.৫ লাখের বেশি
পরিবার সঞ্চয়পত্র
৫ বছর
প্রতি মাসে
১১.৯৩%
১১.৮০%
পেনশনার সঞ্চয়পত্র
৫ বছর
প্রতি ৩ মাসে
১১.৯৮%
১১.৮০%
৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র
৫ বছর
মেয়াদ শেষে
১১.৮৩%
১১.৮০%
৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক
৩ বছর
প্রতি ৩ মাসে
১১.৮২%
১১.৭৭%
কেনার দিন যে হার চালু থাকে, পুরো মেয়াদে সেই হারই পাবেন। পরে হার বদলালেও আপনার সঞ্চয়পত্রের হার বদলাবে না।
উদাহরণ
উদাহরণ ১: পরিবার সঞ্চয়পত্রে ৳৫ লাখ
বছরে মুনাফা: ৳৫,০০,০০০ × ১১.৯৩% = ৳৫৯,৬৫০
মাসে মুনাফা: ৳৫৯,৬৫০ ÷ ১২ = ৳৪,৯৭১
উৎসে কর ৫% (মোট বিনিয়োগ ৳৫ লাখ পর্যন্ত): ৳২৪৯
প্রতি মাসে হাতে পাবেন প্রায় ৳৪,৭২২
উদাহরণ ২: ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ৳১ লাখ
৫ বছরে মুনাফা: ৳১,০০,০০০ × ১১.৮৩% × ৫ = ৳৫৯,১৫০
উৎসে কর ৫%: ৳২,৯৫৮
মেয়াদ শেষে মোট পাবেন ৳১,৫৬,১৯৩ (আসল ৳১ লাখ + মুনাফা ৳৫৬,১৯৩)
বাংলাদেশে যা জানা দরকার
ধাপভিত্তিক হার: সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে হার একটু বেশি, তার বেশি হলে একটু কম।
হার বদলায় ৬ মাস পরপর: সাধারণত জানুয়ারি ও জুলাইয়ে সরকার নতুন হার ঘোষণা করে। এই পাতায় সবসময় সর্বশেষ যাচাই করা হার ও তারিখ দেখানো হয়।
টিআইএন ও রিটার্ন: বড় অঙ্কের সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন বা রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র (PSR) লাগে। কেনার আগে ব্যাংক বা সঞ্চয় অফিসে কাগজপত্রের তালিকা জেনে নিন।
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে আয়কর রেয়াত: সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ আয়করের রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগ হিসেবে ধরা যায়। আয়কর ক্যালকুলেটরে সেটি যোগ করে দেখতে পারেন।
বিস্তারিত: কোন সঞ্চয়পত্র কার জন্য ভালো
নিয়মিত মাসিক আয় দরকার হলে পরিবার সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে সুবিধাজনক, কারণ প্রতি মাসে মুনাফা আসে। তবে কিনতে পারেন শুধু নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা।
অবসরের টাকা রাখতে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের হার সবচেয়ে বেশি, আর শুধু এতে ৳৫ লাখ পর্যন্ত বিনিয়োগে উৎসে কর নেই।
কম মেয়াদে রাখতে চাইলে ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ মাত্র ৩ বছর।
মুনাফা খরচ না করে জমাতে চাইলে ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে পুরো মুনাফা মেয়াদ শেষে একসঙ্গে পাবেন। তবে মুনাফা চক্রবৃদ্ধি হয় না, তাই মাসিক মুনাফা নিয়ে অন্য জায়গায় জমালে মোট লাভ একই বা একটু বেশি হতে পারে।
মেয়াদের আগে টাকা লাগতে পারে মনে হলে নিচের নগদায়ন সারণি দেখে নিন। প্রথম কয়েক বছরে ভাঙালে হার অনেক কম, আর ১ বছরের আগে ভাঙালে সাধারণত মুনাফা মেলে না। জরুরি খরচের টাকা আলাদা রাখাই ভালো।
সাধারণ প্রশ্ন
২০২৬ সালে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কত?
জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদে আগের হারই বহাল আছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মেয়াদপূর্তিতে হার: পরিবার সঞ্চয়পত্র ১১.৯৩%, পেনশনার ১১.৯৮%, ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ১১.৮৩%, ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক ১১.৮২%। সাড়ে ৭ লাখের বেশি বিনিয়োগে হার একটু কম (১১.৭৭%–১১.৮০%)। জানুয়ারি ২০২৬-এ হার কমানোর ঘোষণা এসেছিল, কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহার করা হয়।
পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১০ লাখ টাকায় মাসে কত মুনাফা?
১০ লাখ টাকা সাড়ে ৭ লাখের বেশি, তাই হার ১১.৮০%। বছরে মুনাফা ৳১,১৮,০০০, মাসে ৳৯,৮৩৩। মোট বিনিয়োগ ৫ লাখের বেশি হওয়ায় ১০% উৎসে কর কাটার পরে মাসে হাতে পাবেন ৳৮,৮৫০।
৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে মুনাফা কত?
সাড়ে ৭ লাখ পর্যন্ত বিনিয়োগে মেয়াদপূর্তির হার ১১.৮২%, মেয়াদ ৩ বছর, মুনাফা দেওয়া হয় প্রতি ৩ মাসে। যেমন ৳২ লাখে প্রতি ৩ মাসে মুনাফা ৳৫,৯১০, ৫% কর কাটার পরে ৳৫,৬১৪।
সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কর কত?
সব সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে মোট বিনিয়োগ ৳৫ লাখ পর্যন্ত হলে মুনাফার ওপর ৫%, বেশি হলে ১০% উৎসে কর কাটা হয়। শুধু পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ ৳৫ লাখ পর্যন্ত হলে কোনো উৎসে কর নেই।
মেয়াদের আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙালে কত মুনাফা পাব?
যে বছরে ভাঙাবেন সেই বছরের নির্ধারিত হারে মুনাফা হিসাব হয়, যা মেয়াদপূর্তির হারের চেয়ে কম। কেনার ১ বছরের মধ্যে ভাঙালে সাধারণত কোনো মুনাফা দেওয়া হয় না। মাসিক বা ত্রৈমাসিক মুনাফা আগেই নিয়ে থাকলে বাড়তি অংশ আসল থেকে কেটে রাখা হয়। ক্যালকুলেটরের নিচের সারণিতে প্রতি বছরের হিসাব দেখতে পাবেন।
সর্বোচ্চ কত টাকার সঞ্চয়পত্র কেনা যায়?
৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে একক নামে ৳৩০ লাখ ও যৌথ নামে ৳৬০ লাখ, পরিবার সঞ্চয়পত্রে ৳৪৫ লাখ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৳৫০ লাখ পর্যন্ত কেনা যায়। সব স্কিম মিলিয়ে একক নামে সর্বোচ্চ সীমা ৳৫০ লাখ। কেনার আগে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর বা ব্যাংক থেকে বর্তমান সীমা নিশ্চিত হয়ে নিন।
পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র কারা কিনতে পারেন?
পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন ১৮ বছরের বেশি বয়সী নারী, যেকোনো বয়সের শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নারী-পুরুষ। পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ও আধা-সরকারি কর্মচারী এবং পারিবারিক পেনশনভোগীরা, আনুতোষিক ও ভবিষ্য তহবিলের টাকা দিয়ে।
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কি হালাল?
সঞ্চয়পত্রে আগে থেকে নির্দিষ্ট হারে মুনাফা দেওয়া হয়। এটিকে সুদ হিসেবে দেখা হবে কি না, সে বিষয়ে আলেমদের মধ্যে ভিন্নমত আছে। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের জন্য একজন নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নিন। এই ক্যালকুলেটর শুধু হিসাব দেখায়।