প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে ৫ বছর জমালে ৭.২৫% অস্থায়ী হারে কর কাটার পর সম্ভাব্য প্রাপ্তি প্রায় ৳৩,৫৬,২২০। চূড়ান্ত হার ০.৫% কম-বেশি হলে তা ৳৩,৫১,৮৯২ থেকে ৳৩,৬০,৬২২ হতে পারে।
৳
= ৫ হাজার টাকা
বছর
= ৬০ মাস / ৬০টি কিস্তি
%
মেয়াদ বদলালে উদাহরণ হার বসে (ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে প্রযোজ্য অস্থায়ী হার)। আপনার ব্যাংকের হার লিখে নিন।
মুনাফা যোগ হয়
রিটার্ন জমার প্রমাণ (PSR)
± ০.৫%
মেয়াদশেষে সম্ভাব্য প্রাপ্তি
৳৩,৫৬,২২০
অস্থায়ী হারে, উৎসে কর কাটার পর
চূড়ান্ত হার ±০.৫% হলে: ৳৩,৫১,৮৯২ থেকে ৳৩,৬০,৬২২
মোট জমা
৳৩,০০,০০০
মোট মুনাফা (কর কাটার আগে)
৳৬২,৪৬৭
মেয়াদশেষে মোট
৳৩,৬২,৪৬৭
উৎসে কর (১০%)
− ৳৬,২৪৭
হাতে পাবেন
৳৩,৫৬,২২০
প্রতি মাসে ৳৫,০০০ করে ৫ বছর জমালে ৭.২৫% অস্থায়ী হারে কর কাটার পর সম্ভাব্য প্রাপ্তি ৳৩,৫৬,২২০। চূড়ান্ত হার অনুযায়ী তা ৳৩,৫১,৮৯২ থেকে ৳৩,৬০,৬২২ হতে পারে।
এটি অস্থায়ী হারে সম্ভাব্য হিসাব। ব্যাংক বছর শেষে চূড়ান্ত হার ঘোষণা করে; অনেক ব্যাংক প্রকল্পের নির্দিষ্ট মেয়াদশেষ টেবিলও দেয়, তাই সামান্য পার্থক্য হতে পারে।
উদাহরণ হার: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে প্রযোজ্য অস্থায়ী হার। পরে হার বদলে থাকতে পারে, যাচাই চলছে — নিজের ব্যাংকের হার লিখে নিন।
কীভাবে হিসাব হলো
মোট জমা = ৳৫,০০০ × ৬০টি কিস্তি = ৳৩,০০,০০০
মাসিক হার = ৭.২৫% ÷ ১২ = ০.৬০৪২%
চলতি স্থিতির ওপর মাসে মাসে মুনাফা ধরা হয়, যোগ হয় প্রতি মাসে
মেয়াদশেষে মোট ৳৩,৬২,৪৬৭, অর্থাৎ মুনাফা ৳৬২,৪৬৭
মুনাফা থেকে ১০% উৎসে কর = ৳৬,২৪৭; হাতে ৳৩,৫৬,২২০
চূড়ান্ত হার কম-বেশি হলে প্রাপ্তি ৳৩,৫১,৮৯২ থেকে ৳৩,৬০,৬২২
মেয়াদ বাছুন (১ থেকে ১৫ বছর বা মাসে)। মেয়াদ বদলালে উদাহরণ অস্থায়ী হার নিজে বসে যায়।
আপনার ব্যাংকের হার জানা থাকলে হারের ঘরে লিখুন, আর মুনাফা মাসে না ৩ মাসে যোগ হয় বাছুন।
রিটার্ন জমার প্রমাণ (PSR) আছে কি না দিন।
স্লাইডারে চূড়ান্ত হারের সম্ভাব্য পার্থক্য দিন — প্রাপ্তির সীমা দেখাবে।
মুনাফার হিসাব (অস্থায়ী হারে)
প্রতি মাসের শুরুতে কিস্তি জমা হয়। মাসিক হার = বার্ষিক অস্থায়ী হার ÷ ১২। প্রতি মাসে চলতি স্থিতির ওপর মুনাফা ধরা হয়; প্রকল্পভেদে তা মাসে মাসে বা ৩ মাস পরপর স্থিতিতে যোগ হয়। মেয়াদশেষে মোট মুনাফা থেকে উৎসে কর কাটা হয়।
উদাহরণ
৫ বছর: মাসে ৳৫,০০০, ৭.২৫%, মুনাফা মাসে মাসে যোগ। মোট জমা ৳৩,০০,০০০, মুনাফা প্রায় ৳৬২,৪৬৭, কর ৳৬,২৪৭, হাতে প্রায় ৳৩,৫৬,২২০।
১০ বছর: মাসে ৳২,০০০, ৭.৭৫%। মোট জমা ৳২,৪০,০০০, মুনাফা প্রায় ৳১,২৩,১৬৩, কর কাটার পর হাতে প্রায় ৳৩,৫০,৮৪৭।
মেয়াদ
উদাহরণ অস্থায়ী হার (১ জানুয়ারি ২০২৬)
৬ মাস
৫.২৫%
১ বছর
৫.৭৫%
২ বছর
৬.০০%
৩–৪ বছর
৬.৭৫%
৫ বছর
৭.২৫%
৭ বছর
৭.৫০%
১০ বছর
৭.৭৫%
১৫ বছর
৮.০০%
বাংলাদেশে যা জানা দরকার
হার ব্যাংক ও প্রকল্পভেদে আলাদা: ওপরের হার একটি ব্যাংকের উদাহরণ মাত্র; নিজের ব্যাংকের রেট শিট দেখুন।
চূড়ান্ত হার বছর শেষে: অস্থায়ী হারে হিসাব হয়, পরে চূড়ান্ত হার অনুযায়ী সমন্বয়।
উৎসে কর: মুনাফার ১০%, রিটার্ন জমার প্রমাণ (PSR) না থাকলে ১৫%।
কিস্তির নিয়ম: বিলম্ব, মাঝপথে বন্ধ বা ঋণ নেওয়ার শর্ত ব্যাংকভেদে আলাদা।
বিস্তারিত: কোনটা বাছবেন — মাসিক সঞ্চয় না মেয়াদি আমানত?
হাতে একসঙ্গে টাকা না থাকলে মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করে। একসঙ্গে টাকা থাকলে মুদারাবা মেয়াদি আমানতে সাধারণত হার বেশি। মাসিক সঞ্চয়ে প্রথম দিকের কিস্তি বেশি দিন খাটে, শেষের কিস্তি অল্প দিন — তাই মোট জমার ওপর গড় মুনাফা ঘোষিত হারের প্রায় অর্ধেক মনে হয়, এটা স্বাভাবিক।
সাধারণ প্রশ্ন
মুদারাবা মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প কী?
এটি ইসলামি ব্যাংকের ডিপিএস-ধরনের প্রকল্প: প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কিস্তি জমা হয়, আর জমা টাকার বিনিয়োগ আয় মুদারাবা নীতিতে ভাগ হয়ে মুনাফা হিসেবে যোগ হয়। মেয়াদশেষে জমা আর মুনাফা একসঙ্গে পাওয়া যায়।
ডিপিএস আর মুদারাবা সঞ্চয়ের হিসাবে পার্থক্য কী?
অঙ্কের হিসাব প্রায় একই — চলতি স্থিতির ওপর মাসে মাসে মুনাফা ধরা হয়। পার্থক্য হলো মুদারাবায় হার অস্থায়ী; বছর শেষে চূড়ান্ত হার ঘোষণা হয়, আর মুনাফা সুদ নয়, বিনিয়োগ আয়ের ভাগ।
মাসে ৫,০০০ টাকা ৫ বছর জমালে কত পাব?
৭.২৫% অস্থায়ী হারে মোট জমা ৳৩,০০,০০০, সম্ভাব্য মুনাফা প্রায় ৳৬২,৪৬৭; ১০% উৎসে কর কাটার পর হাতে প্রায় ৳৩,৫৬,২২০। আপনার ব্যাংকের হার দিয়ে ওপরে মিলিয়ে নিন।
ব্যাংক যে মেয়াদশেষ টেবিল দেয় তার সঙ্গে মিলবে না কেন?
অনেক ব্যাংক প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদশেষ অঙ্কের টেবিল দেয়, যেখানে মুনাফা যোগের নিয়ম ও রাউন্ডিং আলাদা হতে পারে। তাই কয়েকশো টাকা পার্থক্য হওয়া স্বাভাবিক।
কিস্তি দিতে দেরি হলে বা মাঝপথে বন্ধ করলে?
প্রতিটি ব্যাংকের নিয়ম আলাদা — কেউ বিলম্ব ফি নেয়, মাঝপথে বন্ধ করলে কম হারে মুনাফা দেয়। খোলার সময় শর্তগুলো জেনে নিন।