ইএমআই ক্যালকুলেটর: লোনের মাসিক কিস্তি হিসাব করুন

৫ লাখ টাকা ঋণ বার্ষিক ১২% সুদে ৫ বছরের জন্য নিলে মাসিক কিস্তি (ইএমআই) হয় ৳১১,১২২, আর পুরো মেয়াদে মোট সুদ ৳১,৬৭,৩৩৩। নিচে আপনার ঋণের অঙ্ক, হার আর মেয়াদ বছরে বা মাসে দিয়ে সাথে সাথে হিসাব দেখুন।

৳

= ৫ লাখ টাকা

%
বছর

= ৬০ মাস / ৬০টি কিস্তি

মাসিক কিস্তি (ইএমআই)

৳১১,১২২

৬০টি কিস্তি

সুদ২৫%
মূল ঋণ
৳৫,০০,০০০
মোট সুদ
৳১,৬৭,৩৩৩
মোট পরিশোধ
৳৬,৬৭,৩৩৩

৳৫,০০,০০০ ঋণ ১২% সুদে ৫ বছর মেয়াদে নিলে মাসিক কিস্তি ৳১১,১২২, পুরো মেয়াদে মোট সুদ ৳১,৬৭,৩৩৩।

কীভাবে হিসাব হলো
  1. মাসিক সুদের হার r = ১২% ÷ ১২ ÷ ১০০ = ০.০১
  2. মোট কিস্তি n = ৬০
  3. ইএমআই = P × r × (1+r)ⁿ ÷ [(1+r)ⁿ − 1] = ৳১১,১২২
  4. প্রথম কিস্তিতে সুদ ৳৫,০০০, মূলধন শোধ ৳৬,১২২
  5. মোট পরিশোধ ৳৬,৬৭,৩৩৩, এর মধ্যে সুদ ৳১,৬৭,৩৩৩

পরিশোধ সূচি

১২৩৪৫
মূলধনসুদ
বছরমূলধন পরিশোধসুদঅবশিষ্ট ঋণ
১৳৭৭,৬৪৫৳৫৫,৮২২৳৪,২২,৩৫৫
২৳৮৭,৪৯২৳৪৫,৯৭৪৳৩,৩৪,৮৬২
৩৳৯৮,৫৮৯৳৩৪,৮৭৮৳২,৩৬,২৭৪
৪৳১,১১,০৯২৳২২,৩৭৪৳১,২৫,১৮১
৫৳১,২৫,১৮১৳৮,২৮৫৳০

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  1. ঋণের পরিমাণ লিখুন। ‘৫ লাখ’, ‘5L’ বা ৫,০০,০০০ যেকোনোভাবে লিখলেই চলবে।
  2. ব্যাংক যে বার্ষিক সুদের হার বলেছে সেটি দিন।
  3. মেয়াদ দিন। পাশের ‘বছর | মাস’ বোতাম দিয়ে একক বদলান, যেমন কার্ডের ৬ মাসের কিস্তির জন্য ‘মাস’।
  4. মাসিক কিস্তি, মোট সুদ, মোট পরিশোধ আর বছর বা মাসভিত্তিক পরিশোধ সূচি সাথে সাথে দেখবেন।
  5. দুটি অফার মেলাতে চাইলে ‘আরেকটি হিসাবের সঙ্গে তুলনা করুন’ চাপুন।

ইএমআই হিসাবের সূত্র

ইএমআই = P × r × (1 + r)ⁿ ÷ [(1 + r)ⁿ − 1]

  • P = মূল ঋণ
  • r = মাসিক সুদের হার = বার্ষিক হার ÷ ১২ ÷ ১০০
  • n = মোট কিস্তির সংখ্যা (মাস)

বার্ষিক সুদ ১২% হলে মাসিক হার r = ১২ ÷ ১২ ÷ ১০০ = ০.০১।

উদাহরণ

ব্যক্তিগত ঋণ: ৫ লাখ টাকা, ১২% সুদ, ৫ বছর (৬০ কিস্তি)। কিস্তি ৳১১,১২২। প্রথম কিস্তিতে সুদ ৳৫,০০০, মূলধন শোধ ৳৬,১২২। মোট সুদ ৳১,৬৭,৩৩৩।

গৃহঋণ, মেয়াদ কমালে কত বাঁচে: ৩০ লাখ টাকা, ৯% সুদ।

মেয়াদ মাসিক কিস্তি মোট সুদ
২০ বছর ৳২৬,৯৯২ ৳৩৪,৭৮,০২৭
১৫ বছর ৳৩০,৪২৮ ৳২৪,৭৭,০৪০

মাসে ৳৩,৪৩৬ বেশি কিস্তি দিয়ে মেয়াদ ৫ বছর কমালে মোট সুদ কমে প্রায় ১০ লাখ টাকা।

স্বল্পমেয়াদি ঋণ: ২ লাখ টাকা, ১৪% সুদ, ২৪ মাস হলে কিস্তি ৳৯,৬০৩, মোট সুদ ৳৩০,৪৬২।

বাংলাদেশে যা জানা দরকার

  • সুদের হার বাজারভিত্তিক: ব্যাংক ও ঋণের ধরনভেদে হার আলাদা। অফার নেওয়ার আগে একাধিক ব্যাংকের হার মিলিয়ে নিন।
  • ফ্ল্যাট রেট সাবধানে দেখুন: অনেক এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাট রেটে সুদ বলে। একই সংখ্যার ফ্ল্যাট রেটে আসল খরচ রিডিউসিং রেটের প্রায় দ্বিগুণ।
  • অতিরিক্ত খরচ: প্রসেসিং ফি, ডকুমেন্টেশন চার্জ, বিমা ও আগাম পরিশোধ ফি কিস্তির হিসাবে ধরা থাকে না। ব্যাংকের কাছে লিখিত তালিকা চেয়ে নিন।
  • ইসলামি ব্যাংকের বিনিয়োগ: সুদের বদলে মুনাফা বা ভাড়ার (যেমন HPSM) কাঠামো থাকে। মাসিক অঙ্ক অনেক সময় কাছাকাছি হয়, তবে পদ্ধতি আলাদা।
বিস্তারিত: কিস্তির ভেতরে কী থাকে, আর কিস্তি কমানোর উপায়

প্রতি মাসে ব্যাংক প্রথমে অবশিষ্ট ঋণের ওপর সেই মাসের সুদ কেটে নেয়, কিস্তির বাকি টাকায় মূলধন শোধ হয়। শুরুতে অবশিষ্ট ঋণ বেশি থাকে বলে সুদের ভাগও বেশি। যত মাস যায়, ঋণ কমে, সুদের ভাগ কমে আর মূলধনের ভাগ বাড়ে। ওপরের চার্টে প্রতি বছরের এই ভাগ দেখতে পাবেন।

কিস্তি কমানোর তিনটি উপায়:

  1. ডাউন পেমেন্ট বাড়ানো: ঋণ যত কম, কিস্তি ও সুদ দুটোই তত কম।
  2. কম সুদের হার খোঁজা: ৫ লাখ টাকা ৫ বছরে ১২%-এর বদলে ১১% সুদে নিলে মোট সুদ কমে প্রায় ৳১৫,০৬০।
  3. মেয়াদ বাড়ানো: মাসিক কিস্তি কমে, কিন্তু মোট সুদ বাড়ে। সামর্থ্যের মধ্যে সবচেয়ে ছোট মেয়াদটাই সাধারণত লাভজনক।

কত টাকা কিস্তি নেওয়া নিরাপদ? সাধারণ পরামর্শ হলো, সব ঋণের মোট কিস্তি যেন মাসিক আয়ের এক-তৃতীয়াংশের বেশি না হয়।

সাধারণ প্রশ্ন

ইএমআই কী এবং কীভাবে কাজ করে?

ইএমআই (Equated Monthly Installment) হলো প্রতি মাসে ব্যাংককে দেওয়া সমান অঙ্কের কিস্তি। প্রতিটি কিস্তির একটি অংশ যায় সুদে, বাকিটা মূল ঋণ শোধে। শুরুতে অবশিষ্ট ঋণ বেশি থাকে বলে সুদের ভাগ বেশি, সময়ের সঙ্গে মূলধনের ভাগ বাড়ে।

১০ লাখ টাকা লোন নিলে মাসিক কিস্তি কত?

সুদের হার ও মেয়াদের ওপর নির্ভর করে। ১২% সুদে ৫ বছরে কিস্তি ৳২২,২৪৪ (মোট সুদ ৳৩,৩৪,৬৬৭), ১১% সুদে ৳২১,৭৪২। আপনার হার ও মেয়াদ দিয়ে ওপরের ক্যালকুলেটরে দেখে নিন।

ফ্ল্যাট রেট আর রিডিউসিং রেটের পার্থক্য কী?

ফ্ল্যাট রেটে পুরো মেয়াদ জুড়ে শুরুর পুরো ঋণের ওপর সুদ ধরা হয়, রিডিউসিং রেটে শুধু অবশিষ্ট ঋণের ওপর। ১ লাখ টাকা ১ বছরে ১০% ফ্ল্যাট রেটে সুদ ৳১০,০০০, কিন্তু ১০% রিডিউসিং রেটে মাত্র ৳৫,৪৯৯। এই ক্যালকুলেটর রিডিউসিং পদ্ধতিতে হিসাব করে, যা ব্যাংকগুলো সাধারণত ব্যবহার করে।

মেয়াদ বাড়ালে কিস্তি কতটা কমে?

কিস্তি কমে, কিন্তু মোট সুদ অনেক বাড়ে। ৩০ লাখ টাকা ৯% সুদে ১৫-এর বদলে ২০ বছরে নিলে কিস্তি মাসে ৳৩,৪৩৬ কমে, কিন্তু মোট সুদ বাড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা। ‘তুলনা করুন’ দিয়ে নিজের দুটি মেয়াদ মিলিয়ে দেখুন।

ক্রেডিট কার্ডের ৩ বা ৬ মাসের কিস্তি কি এখানে হিসাব করা যায়?

হ্যাঁ। মেয়াদের পাশে ‘মাস’ বেছে ৩ বা ৬ লিখুন, আর কার্ডের নির্দিষ্ট সুদের হার দিন। ০% কিস্তিতে হার ০ দিলে কিস্তি হবে দাম ÷ মাস; প্রসেসিং ফি থাকলে সেটি আলাদা যোগ করুন।

আগাম কিস্তি বা আংশিক পরিশোধ করলে কি সুদ কমে?

হ্যাঁ। আগাম টাকা দিলে অবশিষ্ট ঋণ কমে, ফলে পরের মাসগুলোর সুদও কমে। শুরুর দিকে আগাম দিলে সবচেয়ে বেশি সুদ বাঁচে। তবে কিছু ব্যাংক আগাম পরিশোধে ফি নেয়, আগে জেনে নিন।

এই হিসাব কি ব্যাংকের হিসাবের সঙ্গে হুবহু মিলবে?

প্রায় মিলবে। ব্যাংক দিন ধরে সুদ গোনে কি না, প্রসেসিং ফি বা বিমা কিস্তিতে যোগ করে কি না, এসব কারণে কয়েক টাকা পার্থক্য হতে পারে। চূড়ান্ত অঙ্ক ব্যাংকের অফার লেটার থেকে নিন।

এই নামেও খোঁজেন

লোনের কিস্তি হিসাব · ব্যাংক লোনের মাসিক কিস্তি হিসাব · হোম লোন ইএমআই ক্যালকুলেটর · গাড়ির লোনের কিস্তি · kisti hisab · loan kisti calculator · emi calculator bd