সূত্র (formula)
বাইক (২ বছর) = মূল ফি + পরিদর্শন + প্লেট + DRC + ২ বছরের ট্যাক্স টোকেন
বাইক (১০ বছর) = মূল ফি + পরিদর্শন + প্লেট + DRC + (২ বছরের টোকেন × ৫)
গাড়ি (আনুমানিক) = সিসি স্ল্যাবের AIT × গুণক + ফিটনেস ফি
মূল ফি ইঞ্জিনভেদে: ১০০ সিসি পর্যন্ত ৳২,০০০, তার বেশি হলে ৳৩,০০০। পরিদর্শন ৳৪৫০, ডিজিটাল প্লেট ৳২,২৬০, DRC ৳৫৫৫ — দুই মেয়াদেই একবার। ট্যাক্স টোকেন ২ বছরের ৳২,৩০০; ১০ বছরের এককালীন কাগজে টোকেন ৫ গুণে ৳১১,৫০০।
উদাহরণ
১৫০ সিসি বাইক, ২ বছরের কাগজ: ৳৩,০০০ + ৳৪৫০ + ৳২,২৬০ + ৳৫৫৫ + ৳২,৩০০ = ৳৮,৫৬৫। একই বাইকে ১০ বছরের কাগজ নিলে টোকেন হয় ৳২,৩০০ × ৫ = ৳১১,৫০০, মোট ৳১৭,৭৬৫ — অর্থাৎ ৫ বার ২ বছরের টোকেন নবায়নের সমান টোকেন, কিন্তু একবারের খরচগুলো একবারই।
১৫০০ সিসি প্রাইভেট কার, প্রথম বছর: স্ল্যাবের AIT ৳২৫,০০০ + ফিটনেস ৳১,৫২৫ = ৳২৬,৫২৫ (আনুমানিক)। পিএসআর না থাকলে AIT দাঁড়ায় ৳৩৭,৫০০, আর দ্বিতীয় গাড়িও হলে ৳৫৬,২৫০।
বাংলাদেশে যা জানা দরকার
- ২,০০০/৩,০০০ টাকার মূল ফি এখনো যাচাই হয়নি: ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাইযোগ্য সর্বমোট ছিল ৳১০,১৫২ (ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্কসহ)। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর কমানোর দাবির এসআরও পাওয়া যায়নি — এই পাতার অঙ্কে ভ্যাট/সম্পূরক শুল্ক ধরা নেই।
- ১০ বছরের সুবিধা: এককালীন কাগজে প্রতি ২ বছর পরপর নবায়নের ঝামেলা নেই। পুরো ১০ বছর শেষ হলে মাত্র ৳২৩ দিয়ে টোকেন পুনরায় ইস্যুর নিয়ম আছে বলে জানা যায় (আনুমানিক)।
- গাড়ির অঙ্ক কেন আনুমানিক: অনলাইনে ছড়ানো “সিসি অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন + টোকেন” তালিকাগুলো আসলে AIT স্ল্যাবেরই অনুলিপি। আসল রেজিস্ট্রেশন ফি গাড়ির নম্বর দিয়ে বিএসপির ফি ক্যালকুলেটরে দেখুন, আর বিকাশ/নগদ রসিদ সংরক্ষণ করুন।
- ×১.৫-এর দুই শর্ত (এনবিআর পরিপত্র, ৮ জুলাই ২০২৪): পিএসআর না থাকলে প্রতিটি গাড়িতে ×১.৫; একাধিক গাড়ির মালিকের দ্বিতীয় ও পরের প্রতিটি গাড়িতে আরও ×১.৫। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিবর্তন হয়েছে কি না, নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
- সেকেন্ড-হ্যান্ড: মালিকানা পরিবর্তন এখন অনলাইনে হয়। নাম না বদলালে আগের মালিকের নামেই কর উঠতে থাকে।
খরচের তালিকা
| খাত | ১০০ সিসি পর্যন্ত | ১০০ সিসির বেশি |
|---|---|---|
| মূল রেজিস্ট্রেশন ফি | ৳২,০০০ | ৳৩,০০০ |
| পরিদর্শন ফি | ৳৪৫০ | ৳৪৫০ |
| ডিজিটাল নম্বর প্লেট | ৳২,২৬০ | ৳২,২৬০ |
| DRC | ৳৫৫৫ | ৳৫৫৫ |
| ট্যাক্স টোকেন (২ বছর) | ৳২,৩০০ | ৳২,৩০০ |
| মোট (২ বছর) | ৳৭,৫৬৫ | ৳৮,৫৬৫ |
| মোট (১০ বছর) | ৳১৬,৭৬৫ | ৳১৭,৭৬৫ |
| গাড়ির ইঞ্জিন | AIT (পিএসআর আছে, একটি গাড়ি) | পিএসআর নেই / অতিরিক্ত গাড়ি |
|---|---|---|
| ১৫০০ সিসি পর্যন্ত | ৳২৫,০০০ | ৳৩৭,৫০০ / ৳৫৬,২৫০ |
| ১৫০১–২০০০ সিসি | ৳৫০,০০০ | ৳৭৫,০০০ / ৳১,১২,৫০০ |
| ২০০১–২৫০০ সিসি | ৳৭৫,০০০ | ৳১,১২,৫০০ / ৳১,৬৮,৭৫০ |
| ২৫০১–৩০০০ সিসি | ৳১,২৫,০০০ | ৳১,৮৭,৫০০ / ৳২,৮১,২৫০ |
| ৩০০১–৩৫০০ সিসি | ৳১,৫০,০০০ | ৳২,২৫,০০০ / ৳৩,৩৭,৫০০ |
| ৩৫০০ সিসির বেশি | ৳২,০০,০০০ | ৳৩,০০,০০০ / ৳৪,৫০,০০০ |
ফিটনেস (প্রাইভেট): ৳১,৫২৫ — অফিসিয়াল নয়, নির্দেশক মাত্র।
বিস্তারিত: ২ বছর না ১০ বছর, আর AIT বনাম রেজিস্ট্রেশন ফি
কোন মেয়াদ লাভজনক? টাকার অঙ্কে ১০ বছর মানেই ৫ বার ২ বছরের টোকেনের সমান টোকেন, সঙ্গে একবারের খরচ একবার — অর্থাৎ ৫ বার আলাদা নবায়ন করলে মোট একই দাঁড়াত (নবায়ন ফি বদল না হলে)। আসল লাভ সময় ও ঝামেলা বাঁচায়: লাইনে দাঁড়ানো, দালাল আর মেয়াদ পার হওয়ার জরিমানার ঝুঁকি কমে। বাইক বিক্রির পরিকল্পনা ২–৩ বছরের মধ্যে থাকলে ২ বছরের কাগজই যথেষ্ট।
AIT আর রেজিস্ট্রেশন ফি এক নয়: AIT (অগ্রিম আয়কর) যায় আয়কর খাতে — পরে রিটার্নে সমন্বয়যোগ্য। আর রেজিস্ট্রেশন, প্লেট, DRC, ফিটনেস যায় বিআরটিএর ফি খাতে — ফেরতযোগ্য নয়। অনেক ব্লগ AIT-কেই “বাৎসরিক রেজিস্ট্রেশন ফি” লিখে — ভুল। গাড়ির মালিক প্রতি বছর যা দেন, তার বড় অংশই AIT।
পুরনো বনাম নতুন ফি: ২০২২-এর খাতওয়ারি ৳১০,১৫২-এর হিসাবে ভ্যাট (পরিদর্শনে ৳৫১৮, মোটরে অতিরিক্ত) ও সম্পূরক শুল্ক (৳৯২৯ + ভ্যাট ৳১৪০) ছিল। এই ক্যালকুলেটরের সরল খাতগুলোতে সেগুলো আলাদা দেখানো হয়নি — বিএসপির রসিদে চূড়ান্ত অঙ্ক মিলিয়ে নিন।