প্রতিটি কোর্সের ক্রেডিট লিখুন আর প্রাপ্ত লেটার গ্রেড বাছুন।
কোর্স বেশি হলে “আরও কোর্স” চাপুন; ভুল ঘর “×” দিয়ে মুছুন।
আগের সেমিস্টারের ফল যোগ করতে টিক দিন, তারপর আগের সিজিপিএ আর আগে সম্পন্ন মোট ক্রেডিট দিন।
ফলাফলে জিপিএ, সিজিপিএ আর শ্রেণি (প্রথম/দ্বিতীয়/তৃতীয়) দেখুন।
সিজিপিএ হিসাবের সূত্র
জিপিএ = Σ(ক্রেডিট × গ্রেড পয়েন্ট) ÷ Σ ক্রেডিট
আগের ফল থাকলে:
সিজিপিএ = (আগের সিজিপিএ × আগের ক্রেডিট + এই সেমিস্টারের পয়েন্ট) ÷ (আগের ক্রেডিট + এই সেমিস্টারের ক্রেডিট)
উদাহরণ
উদাহরণ ১: এক সেমিস্টার, ৫টি কোর্স
কোর্স
ক্রেডিট
গ্রেড
ক্রেডিট × পয়েন্ট
১
৩
A+ (৪.০০)
১২
২
৩
A (৩.৭৫)
১১.২৫
৩
৩
A- (৩.৫০)
১০.৫
৪
৩
B+ (৩.২৫)
৯.৭৫
৫
১.৫
A (৩.৭৫)
৫.৬২৫
মোট ক্রেডিট ১৩.৫, মোট পয়েন্ট ৪৯.১২৫। জিপিএ = ৪৯.১২৫ ÷ ১৩.৫ = ৩.৬৪।
উদাহরণ ২: আগের ফল যোগ করে
আগে ৬০ ক্রেডিটে সিজিপিএ ৩.৪০ থাকলে মোট সিজিপিএ = (৩.৪০ × ৬০ + ৪৯.১২৫) ÷ ৭৩.৫ = ৩.৪৪।
বাংলাদেশে যা জানা দরকার
ইউজিসির অভিন্ন গ্রেডিং (২০০৬-০৭ সেশন থেকে): ৮০+ A+ (৪.০০), ৭৫–৭৯ A (৩.৭৫), ৭০–৭৪ A- (৩.৫০), ৬৫–৬৯ B+ (৩.২৫), ৬০–৬৪ B (৩.০০), ৫৫–৫৯ B- (২.৭৫), ৫০–৫৪ C+ (২.৫০), ৪৫–৪৯ C (২.২৫), ৪০–৪৪ D (২.০০), ৪০-এর নিচে F।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি: ৩.০০+ প্রথম, ২.২৫–২.৯৯ দ্বিতীয়, ২.০০–২.২৪ তৃতীয় শ্রেণি।
নিজস্ব নিয়ম: অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিপ্লোমা (কারিগরি বোর্ড) ভিন্ন নম্বর-সীমা ব্যবহার করে। তাদের ক্ষেত্রে মার্কশিটের লেটার গ্রেড দিয়ে হিসাব করুন।
বিস্তারিত: ক্রেডিট কেন গুরুত্বপূর্ণ, আর সাধারণ ভুল
ক্রেডিটের গুরুত্ব: ৩ ক্রেডিটের কোর্স ১.৫ ক্রেডিটের ল্যাবের চেয়ে দ্বিগুণ প্রভাব ফেলে। তাই বড় কোর্সে ভালো গ্রেড পেলে সিজিপিএ বেশি বাড়ে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স: প্রতি বর্ষে অনেক কোর্স থাকে, আর চার বছরের সব কোর্সের ক্রেডিট মিলিয়ে চূড়ান্ত সিজিপিএ হয়। প্রতি বর্ষ শেষে এই ক্যালকুলেটরে “আগের ফল” হিসেবে আগের সিজিপিএ আর ক্রেডিট দিয়ে নতুন বর্ষ যোগ করুন।
সাধারণ ভুল:
সেমিস্টার জিপিএর সাধারণ গড় করা: ক্রেডিট আলাদা হলে ভুল ফল আসে।
F কোর্স বাদ দেওয়া: অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় F-এর ক্রেডিটও ভাগফলে রাখে।
৫.০০ স্কেলের সঙ্গে মেলানো: বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ ৪.০০ স্কেলে, এসএসসি-এইচএসসির জিপিএ ৫.০০ স্কেলে।
সাধারণ প্রশ্ন
সিজিপিএ বের করার নিয়ম কী?
প্রতিটি কোর্সের ক্রেডিটকে তার গ্রেড পয়েন্ট দিয়ে গুণ করে সব যোগ করুন, তারপর মোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করুন। যেমন ৩ ক্রেডিটে A+ (৪) আর ৩ ক্রেডিটে B (৩) হলে (১২ + ৯) ÷ ৬ = ৩.৫০।
সিজিপিএ কত পেলে প্রথম শ্রেণি?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজিপিএ ৩.০০ বা তার বেশি হলে প্রথম শ্রেণি, ২.২৫ থেকে ২.৯৯ দ্বিতীয় শ্রেণি, আর ২.০০ থেকে ২.২৪ তৃতীয় শ্রেণি।
সব সেমিস্টার মিলিয়ে টোটাল সিজিপিএ কীভাবে বের করব?
প্রতিটি সেমিস্টারের মোট পয়েন্ট (ক্রেডিট × গ্রেড পয়েন্ট) আর মোট ক্রেডিট যোগ করে, মোট পয়েন্টকে মোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করুন। সেমিস্টারের জিপিএগুলোর সাধারণ গড় করবেন না, কারণ সেমিস্টারভেদে ক্রেডিট আলাদা হয়।
জিপিএ আর সিজিপিএর পার্থক্য কী?
জিপিএ হলো একটি সেমিস্টার বা বর্ষের ফল। সিজিপিএ (Cumulative GPA) হলো শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সব সেমিস্টার মিলিয়ে ক্রেডিট অনুযায়ী গড়।
সিজিপিএ থেকে শতকরা নম্বর কীভাবে বের করব?
বাংলাদেশে সিজিপিএ থেকে শতকরায় রূপান্তরের কোনো একক সরকারি সূত্র নেই। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব রূপান্তর সারণি দেয়। চাকরি বা বিদেশে আবেদনে শতকরা লাগলে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে নেওয়াই নিরাপদ।
F পেলে সিজিপিএতে কী হয়?
অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে F পাওয়া কোর্সের ক্রেডিট ভাগফলে থাকে কিন্তু পয়েন্ট ০ ধরা হয়, তাই সিজিপিএ কমে যায়। পরে কোর্সটি পাস করলে নতুন গ্রেড বসে। নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা হতে পারে।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং কি আলাদা?
ইউজিসির অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুপারিশ করা, তবে অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব নম্বর-সীমা ব্যবহার করে। গ্রেড পয়েন্ট জানা থাকলে এই ক্যালকুলেটরে গ্রেড দিয়েই হিসাব করুন।
এই নামেও খোঁজেন
সিজিপিএ বের করার নিয়ম · অনার্স সিজিপিএ ক্যালকুলেটর · টোটাল সিজিপিএ বের করার নিয়ম · সিজিপিএ কত পেলে ফার্স্ট ক্লাস · cgpa ber korar niyom · cgpa calculator nu