প্রতিটি বিষয়ের নম্বর বা গ্রেড দিলেই জানবেন আপনার জিপিএ, ৪র্থ বিষয়সহ ও ছাড়া দুটোই। যেমন ৯টি বাধ্যতামূলক বিষয়ে মোট ৪০.৫ পয়েন্ট আর ৪র্থ বিষয়ে A পেলে জিপিএ হয় ৪.৭২।
পরীক্ষা
কীভাবে দেবেন
বাধ্যতামূলক বিষয়
প্রতিটি বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর (১০০-এর মধ্যে) দিন। দুই পত্রের বিষয় হলে দুই পত্রের গড় নম্বর দিন। ফাঁকা ঘর হিসাবে ধরা হয় না।
আপনার জিপিএ
৪.৭২
গ্রেড A · ৪র্থ বিষয় ছাড়া ৪.৫০
বাধ্যতামূলক বিষয়
৯
বাধ্যতামূলক বিষয়ের মোট পয়েন্ট
৪০.৫
৪র্থ বিষয় (A)
৪
৪র্থ বিষয় থেকে যোগ
+ ২
জিপিএ (৪র্থ বিষয়সহ)
৪.৭২
জিপিএ (৪র্থ বিষয় ছাড়া)
৪.৫০
৪র্থ বিষয়সহ আপনার জিপিএ ৪.৭২ (গ্রেড A); ৪র্থ বিষয় ছাড়া ৪.৫০।
কীভাবে হিসাব হলো
প্রতিটি বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট: A+ (৫), A (৪), A+ (৫), A (৪), A+ (৫), A+ (৫), A (৪), A- (৩.৫), A+ (৫)
গ্রেড পয়েন্ট: ৫ + ৪ + ৫ + ৪ + ৫ + ৫ + ৪ + ৩.৫ + ৫ = ৪০.৫
৪র্থ বিষয়ে ৭৫ = A (৪ পয়েন্ট), অতিরিক্ত = ৪ − ২ = ২
জিপিএ = (৪০.৫ + ২) ÷ ৯ = ৪.৭২
৪র্থ বিষয় ছাড়া জিপিএ = ৪০.৫ ÷ ৯ = ৪.৫০
বাংলাদেশে যা জানা দরকার
একই চার্ট সব বোর্ডে: ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা বোর্ড (দাখিল/আলিম) ও কারিগরি বোর্ডের এসএসসি/এইচএসসি ভোকেশনালে একই ৫.০০ স্কেলের গ্রেডিং চার্ট চলে।
পাস নম্বর ৩৩: প্রতিটি বাধ্যতামূলক বিষয়ে কমপক্ষে ৩৩ (D) পেতে হয়।
সর্বোচ্চ জিপিএ ৫.০০: জিপিএ-৪ স্কেলে যাওয়ার প্রস্তাব (২০১৯) এখনো কার্যকর হয়নি; ২০২৬ সালেও ফল ৫.০০ স্কেলে প্রকাশিত হচ্ছে।
বোর্ডের ফলই চূড়ান্ত: দুই পত্রের বিষয়, ব্যবহারিক ও সৃজনশীল অংশে আলাদা পাস নম্বরের নিয়ম আছে। তাই এই হিসাব ধারণা দেয়; চূড়ান্ত ফল বোর্ডের মার্কশিটে।
বিস্তারিত: জিপিএ ও সিজিপিএর পার্থক্য, আর ভর্তিতে জিপিএর হিসাব
জিপিএ বনাম সিজিপিএ: এসএসসি-এইচএসসির জিপিএ ৫.০০ স্কেলে, প্রতিটি বিষয়ের সমান গুরুত্ব। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ ৪.০০ স্কেলে, আর প্রতিটি কোর্সের গুরুত্ব তার ক্রেডিট অনুযায়ী। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবের জন্য আমাদের সিজিপিএ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।
ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ: অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তিতে এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএ থেকে নম্বর দেওয়া হয়। কেউ ৪র্থ বিষয়সহ জিপিএ নেয়, কেউ ছাড়া। তাই এই ক্যালকুলেটর দুটোই দেখায়। ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে কোনটি চাওয়া হয়েছে তা দেখে নিন।
সাধারণ ভুল:
৪র্থ বিষয় দিয়ে ভাগ করা: ভাগ হয় শুধু বাধ্যতামূলক বিষয়ের সংখ্যা দিয়ে।
৪র্থ বিষয়ের পুরো পয়েন্ট যোগ করা: যোগ হয় ২ বাদ দিয়ে।
দুই পত্রকে দুটি বিষয় ধরা: বোর্ড দুই পত্র মিলিয়ে একটি বিষয় ধরে।
সাধারণ প্রশ্ন
এসএসসি জিপিএ কীভাবে হিসাব করা হয়?
প্রতিটি বাধ্যতামূলক বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট যোগ করে বিষয়ের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা হয়। ৪র্থ বিষয়ে ২-এর বেশি যত পয়েন্ট পান, সেটুকু যোগফলের সঙ্গে যোগ হয়, কিন্তু ভাগ করা হয় শুধু বাধ্যতামূলক বিষয়ের সংখ্যা দিয়ে। ফল ৫.০০-এর বেশি হলে ৫.০০ ধরা হয়।
৪র্থ বিষয়ে কত পয়েন্ট বাদ দেওয়া হয়?
৪র্থ বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট থেকে ২ বাদ দিয়ে বাকিটা যোগ হয়। যেমন A+ (৫) পেলে ৩, A (৪) পেলে ২, A- (৩.৫) পেলে ১.৫ যোগ হয়। ২ বা তার কম পয়েন্ট পেলে কিছুই যোগ হয় না, আবার কিছু কাটাও যায় না।
৪র্থ বিষয়ে ফেল করলে কী হয়?
৪র্থ বিষয়ে F পেলে ফলাফল অকৃতকার্য হয় না; শুধু ওই বিষয় থেকে কোনো পয়েন্ট যোগ হয় না।
এক বিষয়ে F থাকলে জিপিএ কত হয়?
কোনো বাধ্যতামূলক বিষয়ে F (৩৩-এর কম নম্বর) থাকলে পুরো ফলাফল অকৃতকার্য ধরা হয়, জিপিএ দেখানো হয় না (০.০০)।
কোন নম্বরে কোন গ্রেড?
৮০–১০০ নম্বরে A+ (৫), ৭০–৭৯ A (৪), ৬০–৬৯ A- (৩.৫), ৫০–৫৯ B (৩), ৪০–৪৯ C (২), ৩৩–৩৯ D (১) এবং ০–৩২ F (০)।
জিপিএ ৫ পেতে প্রতি বিষয়ে কত নম্বর লাগে?
সাধারণভাবে প্রতিটি বাধ্যতামূলক বিষয়ে A+ অর্থাৎ ৮০ বা তার বেশি নম্বর লাগে। তবে ৪র্থ বিষয়ে ভালো করলে এক-দুটি বিষয়ে A থাকলেও জিপিএ ৫.০০ হতে পারে, কারণ ৪র্থ বিষয়ের অতিরিক্ত পয়েন্ট ঘাটতি পূরণ করে।
দাখিল ও আলিমের জিপিএ কি একই নিয়মে হয়?
হ্যাঁ, মাদ্রাসা বোর্ডের দাখিল ও আলিমেও একই গ্রেডিং চার্ট ও ৪র্থ বিষয়ের নিয়ম প্রযোজ্য। তাই এসএসসি/দাখিল আর এইচএসসি/আলিম একই হিসাবে করা যায়।
দুই পত্রের বিষয়ের নম্বর কীভাবে দেব?
বাংলা বা ইংরেজির মতো দুই পত্রের বিষয়ে বোর্ড দুই পত্র মিলিয়ে একটি গ্রেড দেয়। এখানে দুই পত্রের গড় নম্বর (মোট নম্বর ÷ ২) দিন, অথবা “গ্রেড দিয়ে” বেছে মার্কশিটের গ্রেড দিন।
এই নামেও খোঁজেন
এসএসসি জিপিএ ক্যালকুলেটর · এইচএসসি জিপিএ ক্যালকুলেটর · জিপিএ বের করার নিয়ম · ৪র্থ বিষয় ছাড়া জিপিএ · দাখিল জিপিএ ক্যালকুলেটর · gpa ber korar niyom · ssc gpa calculator