ক্রেডিট কার্ড ইএমআই ক্যালকুলেটর: কিস্তি আর আসল খরচ
৬০,০০০ টাকার ফোন ৬ মাসের ০% ইএমআইতে নিলে মাসে ৳১০,০০০; কিন্তু ২% প্রসেসিং ফি (৳১,২০০) ধরলে আসল খরচ বছরে প্রায় ৬.৯৬%। নিচে দাম, মেয়াদ, সুদ আর ফি দিয়ে নিজের হিসাব দেখুন।
৳
= ৬০ হাজার টাকা
মাস
= ৬ মাস
%
০% ইএমআই অফার হলে ০ দিন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে কার্ডের সুদ বছরে সর্বোচ্চ ২৫%।
সুদের ধরন
প্রসেসিং ফি
%
কেনার সময় একবার নেওয়া রূপান্তর বা প্রসেসিং ফি। না থাকলে ০।
মাসিক কিস্তি
৳১০,০০০
৬ মাস ধরে
পণ্যের দাম
৳৬০,০০০
মোট সুদ
৳০
প্রসেসিং ফি
৳১,২০০
মোট খরচ
৳৬১,২০০
দামের চেয়ে বেশি দিচ্ছেন
৳১,২০০
আসল বার্ষিক খরচ (ফিসহ)
৬.৯৬%
৳৬০,০০০ দামের জিনিস ৬ মাসের কিস্তিতে নিলে প্রতি মাসে ৳১০,০০০, মোট খরচ ৳৬১,২০০। ফি আর সুদ মিলিয়ে আসল বার্ষিক খরচ ৬.৯৬%।
“০% ইএমআই” হলেও ৳১,২০০ ফির কারণে আসল খরচ বছরে প্রায় ৬.৯৬%।
কীভাবে হিসাব হলো
০% সুদ: কিস্তি = ৳৬০,০০০ ÷ ৬ = ৳১০,০০০
প্রসেসিং ফি ৳১,২০০, প্রথম বিলের সঙ্গে
মোট খরচ = দাম + সুদ + ফি = ৳৬১,২০০
ফি ধরে প্রতি মাসের নগদ লেনদেন থেকে আসল বার্ষিক হার (IRR × ১২) = ৬.৯৬%
কিস্তি না করে শুধু ন্যূনতম বিল দিলে?
প্রতি মাসে বিলের ৫% বা ৳৫০০ (যেটি বেশি) দিলে আর কার্ডে বছরে ২৫% সুদ ধরলে শোধ হতে লাগবে ৭ বছর ১ মাস, সুদ দিতে হবে ৳৩৭,৫৪৮।
ন্যূনতম বিলের নিয়ম ব্যাংকভেদে আলাদা — এটি অনুমান, আপনার কার্ডের নিয়ম দেখে নিন।
কিস্তির মেয়াদ বাছুন: ৩, ৬, ৯, ১২, ১৮, ২৪ বা ৩৬ মাস।
ব্যাংকের বার্ষিক সুদের হার দিন; ০% ইএমআই অফার হলে ০।
সুদ রিডিউসিং না ফ্ল্যাট, আর প্রসেসিং ফি শতাংশে না টাকায় — বাছুন ও ফির অঙ্ক দিন।
মাসিক কিস্তি, মোট খরচ আর ফিসহ আসল বার্ষিক হার সাথে সাথে দেখবেন; চাইলে কিস্তি সূচি CSV-তে নামান।
কিস্তির সূত্র
রিডিউসিং রেট (সাধারণত):
ইএমআই = দাম × r × (১+r)ⁿ ÷ [(১+r)ⁿ − ১]
এখানে r = বার্ষিক হার ÷ ১২ ÷ ১০০, n = মোট মাস। প্রতি মাসে শুধু বাকি টাকার ওপর সুদ।
ফ্ল্যাট রেট: মোট সুদ = দাম × হার × মাস ÷ ১২; কিস্তি = (দাম + মোট সুদ) ÷ মাস। পুরো মেয়াদে শুরুর পুরো দামের ওপর সুদ, তাই একই হারে খরচ অনেক বেশি।
আসল বার্ষিক খরচ: প্রসেসিং ফি বাদ দিয়ে হাতে পাওয়া দাম আর প্রতি মাসের কিস্তি থেকে মাসিক হার (IRR) বের করে ১২ দিয়ে গুণ। এতে ফি আর ফ্ল্যাট রেট দুটোর আসল খরচই ধরা পড়ে।
উদাহরণ
অফার
মাসিক কিস্তি
সুদ
ফি
মোট খরচ
আসল বার্ষিক খরচ
৬০,০০০, ৬ মাস, ০%, ২% ফি
৳১০,০০০
৳০
৳১,২০০
৳৬১,২০০
৬.৯৬%
৬০,০০০, ১২ মাস, ১৫% রিডিউসিং
৳৫,৪১৫
৳৪,৯৮৬
৳০
৳৬৪,৯৮৬
১৫.০০%
৬০,০০০, ১২ মাস, ১৫% ফ্ল্যাট
৳৫,৭৫০
৳৯,০০০
৳০
৳৬৯,০০০
২৬.৬২%
১,০০,০০০, ১২ মাস, ০%, ১.৫% ফি
৳৮,৩৩৩
৳০
৳১,৫০০
৳১,০১,৫০০
২.৮০%
বাংলাদেশে যা জানা দরকার
সর্বোচ্চ সুদ: বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে কার্ডের সুদ বছরে ২৫%-এর বেশি নয় (১৬ মার্চ ২০২৬ থেকে)।
ফি: ০% অফারেও সাধারণত ১–৩% প্রসেসিং ফি থাকে; কিছু অফারে থাকে না। ফির ওপর ভ্যাট লাগতে পারে।
নগদ উত্তোলন: কার্ড থেকে নগদ তুললে সুদমুক্ত সময় নেই, প্রথম দিন থেকেই সুদ।
দেরিতে পরিশোধ: কিস্তি দেরি হলে বিলিং সাইকেলে একবার জরিমানা আর বাকির ওপর সুদ লাগে।
বিস্তারিত: কখন কার্ড ইএমআই নেওয়া যুক্তিসংগত
০% সুদ আর কম ফির ইএমআই অনেক সময় নগদ টাকা হাতে রেখে দরকারি জিনিস কেনার সস্তা উপায়, বিশেষ করে যখন আসল বার্ষিক খরচ ব্যাংকের সাধারণ ঋণের চেয়ে কম। কিন্তু ফ্ল্যাট রেটের বা বেশি ফির অফারে আসল খরচ ব্যক্তিগত ঋণের চেয়েও বেশি হতে পারে। আর কিস্তি না করে শুধু ন্যূনতম বিল দিয়ে চললে কার্ডের পুরো সুদে বছরের পর বছর লেগে যায়। কেনার আগে তিনটা জিনিস মিলিয়ে নিন: নগদ দাম বনাম ইএমআই দাম, ফি, আর আসল বার্ষিক খরচ।
সাধারণ প্রশ্ন
০% ইএমআই কি সত্যিই বিনা খরচে?
সুদ ০% হলেও বেশিরভাগ ব্যাংক একবার প্রসেসিং বা রূপান্তর ফি নেয়। যেমন ৬০,০০০ টাকায় ২% ফি মানে ৳১,২০০, যা ৬ মাসের হিসাবে বছরে প্রায় ৬.৯৬% সুদের সমান। কিছু দোকান আবার নগদ দামের চেয়ে ইএমআই দামে বেশি ধরে — দুটো দাম মিলিয়ে নিন।
ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ কত সুদ নিতে পারে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৬ মার্চ ২০২৬-এর নীতিমালা অনুযায়ী কার্ডের সুদ বছরে সর্বোচ্চ ২৫%। সুদ ধরা হয় শুধু অপরিশোধিত বাকির ওপর, পুরো বিলের ওপর নয়।
ফ্ল্যাট রেট আর রিডিউসিং রেটে পার্থক্য কত?
অনেক। ৬০,০০০ টাকা ১২ মাসে ১৫% রিডিউসিং রেটে সুদ প্রায় ৳৪,৯৮৬, কিন্তু ১৫% ফ্ল্যাট রেটে ৳৯,০০০ — আসল বার্ষিক খরচ তখন প্রায় ২৬.৬২%। অফারে কোন পদ্ধতি লেখা আছে দেখে নিন।
কিস্তি না করে শুধু ন্যূনতম বিল দিলে কী হয়?
বাকি টাকায় কার্ডের পুরো সুদ চলতে থাকে। ধরুন ৬০,০০০ টাকা বাকি, বছরে ২৫% সুদ, আর প্রতি মাসে বিলের ৫% বা ৳৫০০ দিচ্ছেন — শোধ হতে লাগবে প্রায় ৭ বছর, সুদ দিতে হবে প্রায় ৳৩৭,৫৪৮। ন্যূনতম বিলের নিয়ম ব্যাংকভেদে আলাদা।
ইএমআই চলাকালীন আগেভাগে শোধ করা যায়?
সাধারণত যায়, তবে কিছু ব্যাংক আগাম শোধে ফি নেয় বা ০% অফারের সুবিধা বাতিল করে। কার্ডের শর্তাবলি বা ব্যাংকের কাছ থেকে জেনে নিন।
কার্ডের ক্রেডিট লিমিট কি ইএমআইয়ে আটকে যায়?
হ্যাঁ, সাধারণত পুরো দামটাই লিমিট থেকে আটকে যায় এবং প্রতি কিস্তি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে খোলে।