জমি কেনা, হেবা পাওয়া বা উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক হলে সরকারি রেকর্ডে (খতিয়ানে) পুরোনো মালিকের নাম বাদ দিয়ে নতুন মালিকের নাম তোলার প্রক্রিয়াই নামজারি বা মিউটেশন, গ্রামে যাকে “খারিজ” বা “জমা খারিজ” বলে। দলিল রেজিস্ট্রি হলেই জমি আপনার নামে রেকর্ড হয় না; নামজারি না করলে নিজের নামে খাজনা দেওয়া যায় না, জমি বিক্রি বা ব্যাংক ঋণ নিতে সমস্যা হয়।
এখন সারা দেশে নামজারি অনলাইনে হয়, আর ২ অক্টোবর ২০২২ থেকে সব ফি অনলাইনে নেওয়া হয়। আবেদনের পর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সরেজমিন প্রতিবেদন দেয়, তারপর এসি (ল্যান্ড) শুনানি নিয়ে আদেশ দেন। মঞ্জুর হলে এসএমএসে জানানো হয়, তখন ডিসিআর ফি দিয়ে অনলাইন খতিয়ান নিতে হয়। আবেদন নামঞ্জুর হলে নিয়ম অনুযায়ী রিভিউ বা আপিল করা যায়।
এই পাতার ফি ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাইনবোর্ড-নির্দেশনার সংবাদ থেকে নেওয়া। ফি বদলালে আমরা পাতাটি হালনাগাদ করব; আবেদনের আগে পোর্টালে দেখানো অঙ্ক মিলিয়ে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
নামজারি করতে কত টাকা লাগে?
সরকারি ফি মোট ৳১,১৭০। আবেদনের সময় কোর্ট ফি ৳২০ ও নোটিশ জারি ফি ৳৫০, আর নামজারি মঞ্জুর হলে রেকর্ড সংশোধন ফি ৳১,০০০ ও খতিয়ান সরবরাহ ফি ৳১০০ (একসঙ্গে ৳১,১০০, ডিসিআর ফি নামে পরিচিত)।
ডিসিআর ফি কত টাকা?
নামজারি মঞ্জুরের পর ৳১,১০০ অনলাইনে দিলে কিউআর কোডসহ অনলাইন ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রসিদ) ও নতুন খতিয়ান পাওয়া যায়। এই ডিসিআর সব জায়গায় গ্রহণযোগ্য।
নামজারি হতে কত দিন লাগে?
সাধারণ আবেদন সর্বোচ্চ ২৮ দিনে নিষ্পত্তি করার কথা; প্রবাসীদের আবেদন মহানগরে ১২ ও অন্য এলাকায় ৯ কর্মদিবসে। বাস্তবে কাগজপত্রে ঘাটতি বা আপত্তি থাকলে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। [যাচাই করুন]
নামজারি আবেদনে কী কী কাগজ লাগে?
আবেদনকারীর ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র, দলিলের কপি (সাফ কবলা, হেবা, বণ্টননামা ইত্যাদি), আগের মালিকের খতিয়ান, হালনাগাদ খাজনার দাখিলা, আর উত্তরাধিকার সূত্রে হলে ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যু সনদ। সব কাগজ স্ক্যান করে অনলাইনে আপলোড করতে হয়।
নামজারির ফি কোথায় দেব?
mutation.land.gov.bd-তে আবেদন করে বিকাশ, নগদ, রকেট, ব্যাংক কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে ফি দিতে হয়। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে নামজারির ফি নগদে নেওয়া হয় না।
নির্ধারিত ফির বেশি টাকা চাইলে কী করব?
ভূমি মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১৬১২২-এ অভিযোগ করুন, বা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউএনও বা জেলা প্রশাসককে জানান। প্রতিটি ভূমি অফিসে ফির তালিকা সাইনবোর্ডে টাঙানোর নির্দেশ আছে।
ওয়ারিশ সূত্রে নামজারিতে কি আলাদা আবেদন লাগে?
২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সব ওয়ারিশের নাম একসঙ্গে দিয়ে একটি আবেদন করতে হয়; বণ্টননামা না থাকলে সবাই এক খতিয়ানে যৌথ মালিক হিসেবে লিপিবদ্ধ হন।