রেজিস্ট্রেশনের সূত্র
খরচ = দলিল মূল্য × (রেজিস্ট্রেশন ফি + স্ট্যাম্প ডিউটি + স্থানীয় সরকার কর + উৎসে কর + ভূমি উন্নয়ন ফি) ÷ ১০০। ফ্ল্যাট হলে এর সঙ্গে ভ্যাট যোগ হয়।
| খাত | ঢাকা (সিটি) | চট্টগ্রাম (সিটি) | অন্য পৌরসভা | ইউনিয়ন |
|---|---|---|---|---|
| রেজিস্ট্রেশন ফি | ১% | ১% | ১% | ১% |
| স্ট্যাম্প ডিউটি | ১% | ১% | ১% | ১% |
| স্থানীয় সরকার কর | ২% | ২% | ২% | ৩% |
| উৎসে কর (গেইন ট্যাক্স) | ৪% | ৩% | ২% | ১% |
| ভূমি উন্নয়ন ফি | ১% | ১% | ১% | ১% |
| মোট | ৯% | ৮% | ৭% | ৭% |
হারগুলো ২০২৫-২৬ বাজেটের খবর থেকে সাজানো [যাচাই করুন] — পুরোনো নির্দেশিকায় স্ট্যাম্প ১.৫% ও উৎসে কর দ্বিগুণ দেখা যায়।
উদাহরণ
ঢাকায় ১০ লাখের জমি: ১০,০০০ + ১০,০০০ + ২০,০০০ + ৪০,০০০ + ১০,০০০ = ৯০,০০০ টাকা (৯%)।
ইউনিয়নে ১০ লাখের জমি: ১০,০০০ + ১০,০০০ + ৩০,০০০ + ১০,০০০ + ১০,০০০ = ৭০,০০০ টাকা (৭%)।
ঢাকায় ৮০ লাখের ১,৪০০ বর্গফুট ফ্ল্যাট: ৯% = ৭,২০,০০০, সঙ্গে ১% ভ্যাট ৮০,০০০ — মোট ৮,০০,০০০ টাকা (১০%)।
বাংলাদেশে যা জানা দরকার
- মৌজা রেট: সরকারি মৌজা রেটের নিচে দলিল মূল্য লেখা যায় না; বেশি দামে কিনলে আসল দাম লেখাই নিয়ম। ফি সেই দলিল মূল্যের ওপর ধরা হয়।
- উৎসে করের ন্যূনতম: কিছু এলাকায় উৎসে কর “শতাংশ অথবা কাঠাপ্রতি নির্দিষ্ট টাকা, যেটি বেশি”। ঢাকার কিছু এলাকায় হার ৪%-এর জায়গায় ৩%। আপনার মৌজার জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিশ্চিত হোন।
- দলিলের ধরন: এই হিসাব সাফ-কবলা (বিক্রয়) দলিলের। রক্তের সম্পর্কে হেবা (দান), বণ্টননামা ও বায়নার ফি আলাদা, অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের।
- বাড়তি খরচ: দলিল লেখকের পারিশ্রমিক, হলফনামা, ই-ফি, নকল তোলা আর পরে নামজারির ফি এই হিসাবের বাইরে।
বিস্তারিত: কেনার আগে যাচাই ও রেজিস্ট্রির ধাপ
কেনার আগে কাগজ যাচাই। বিক্রেতার নামে সর্বশেষ খতিয়ান (বিএস/আরএস), নামজারি (মিউটেশন) খতিয়ান আর হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের রসিদ দেখুন। ভায়া দলিলের (আগের মালিকদের দলিল) ধারাবাহিকতা মিলিয়ে নিন। জমিতে মামলা, ব্যাংকের দায় (মর্টগেজ) বা খাস/অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় নাম আছে কি না খোঁজ নিন, আর সরেজমিনে দখল দেখে নিন।
বায়না। দাম ঠিক হলে বায়নানামা করে অগ্রিম দেওয়া হয়। বায়নানামাও রেজিস্ট্রি করা যায়; এতে বিক্রেতা অন্যত্র বিক্রি করতে পারেন না।
খরচ জমা। রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প, স্থানীয় সরকার কর ও উৎসে কর সাধারণত পে-অর্ডার, ব্যাংক চালান বা অনলাইনে (ই-চালান) জমা দিতে হয়। কোন খাত কোন হিসাবে জমা হবে, দলিল লেখক বা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে লিখিত নিন — নগদ লেনদেন এড়িয়ে চলুন।
রেজিস্ট্রির দিন। ক্রেতা-বিক্রেতা দুজনকেই জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে উপস্থিত হয়ে টিপসই/স্বাক্ষর দিতে হয়। দলিল রেজিস্ট্রির পর রসিদ নিন; মূল দলিল পরে অফিস থেকে তুলতে হয়।
নামজারি। দলিল হলেই খতিয়ানে নাম ওঠে না। রেজিস্ট্রির পর ই-নামজারির আবেদন করে নিজের নামে খতিয়ান খোলান, তারপর থেকে নিজের নামে খাজনা দিন।
হার কেন বদলায়। এই খাতগুলো প্রতি বছর বাজেটে (১ জুলাই থেকে) বদলাতে পারে। এখানের হার ২০২৫-২৬ বাজেটের খবর থেকে নেওয়া; দলিলের আগে অফিসের সর্বশেষ তালিকা দেখে নিন।