ফ্ল্যাটের বর্গফুট দাম ক্যালকুলেটর

আয়তন, দর আর কমন স্পেস দিন। যেমন ১,২৫০ বর্গফুট ৮,০০০ টাকা দরে ১ কোটি; ২৫% কমন স্পেস বাদে ব্যবহারযোগ্য জায়গায় আসলে পড়ে প্রায় ১০,৬৬৭ টাকা/বর্গফুট।

বর্গফুট

ডেভেলপার যে বর্গফুট বলে (কমন স্পেসসহ)

দাম কীভাবে জানেন
৳
%

সিঁড়ি, লিফট, লবি, দেয়াল। চুক্তিপত্র বা ডেভেলপারের কাছে জেনে নিন

বাড়তি খরচ (ঐচ্ছিক)

৳
%

ফ্ল্যাট + পার্কিংয়ের ওপর ধরা হয়। সঠিক হার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জেনে নিন

৳

গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সংযোগ, জেনারেটর ইত্যাদির চার্জ

আরেকটি ফ্ল্যাটের সঙ্গে তুলনা (ঐচ্ছিক)

বর্গফুট
৳
%

আসল ব্যবহারযোগ্য জায়গায় প্রতি বর্গফুট

৳১০,৬৬৭/বর্গফুট

ফ্ল্যাটের দাম
৳১,০০,০০,০০০
বিক্রয় আয়তনে দর
৳৮,০০০/বর্গফুট
ব্যবহারযোগ্য (কার্পেট) আয়তন
৯৩৭.৫ বর্গফুট

বিক্রয় আয়তনে দর ৳৮,০০০/বর্গফুট হলেও ব্যবহারযোগ্য ৯৩৭.৫ বর্গফুটের হিসাবে আসলে পড়ছে ৳১০,৬৬৭/বর্গফুট।

কমন স্পেসের হার প্রকল্পভেদে আলাদা; চুক্তিপত্রে কার্পেট আয়তন আলাদা করে লেখা আছে কি না দেখুন।

কীভাবে হিসাব হলো
  1. ফ্ল্যাটের দাম = ১,২৫০ বর্গফুট × ৳৮,০০০ = ৳১,০০,০০,০০০
  2. কার্পেট আয়তন = ১,২৫০ × (১ − ২৫%) = ৯৩৭.৫ বর্গফুট
  3. কার্পেটে দর = ৳১,০০,০০,০০০ ÷ ৯৩৭.৫ = ৳১০,৬৬৭/বর্গফুট

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  1. ডেভেলপার যে আয়তন বলেছে (বিক্রয়যোগ্য বর্গফুট) লিখুন।
  2. প্রতি বর্গফুট দর অথবা মোট দাম, যেটা জানেন সেটা বেছে লিখুন।
  3. কমন স্পেস কত শতাংশ, চুক্তিপত্র বা ডেভেলপারের কাছ থেকে জেনে লিখুন।
  4. চাইলে পার্কিং, রেজিস্ট্রেশন % ও ইউটিলিটি চার্জ যোগ করুন।
  5. আরেকটি ফ্ল্যাট দেখলে নিচে তার আয়তন, দর ও কমন স্পেস দিয়ে তুলনা করুন।

সূত্র

জানতে চান সূত্র উদাহরণ
মোট দাম আয়তন × দর ১,২৫০ × ৮,০০০ = ১,০০,০০,০০০
বর্গফুট দর মোট দাম ÷ আয়তন ৯০,০০,০০০ ÷ ১,২০০ = ৭,৫০০
কার্পেট আয়তন আয়তন × (১ − কমন স্পেস%) ১,২৫০ × ০.৭৫ = ৯৩৭.৫
কার্পেটে দর মোট দাম ÷ কার্পেট আয়তন ১,০০,০০,০০০ ÷ ৯৩৭.৫ = ১০,৬৬৭
রেজিস্ট্রেশন (দাম + পার্কিং) × রেজিস্ট্রেশন% —
সব খরচসহ দর (দাম + পার্কিং + রেজিস্ট্রেশন + ইউটিলিটি) ÷ আয়তন —

উদাহরণ

শুধু দর: ১,২৫০ বর্গফুট, ৮,০০০ টাকা দর, ২৫% কমন স্পেস। দাম ১ কোটি টাকা; ব্যবহারযোগ্য ৯৩৭.৫ বর্গফুট, তাই আসল দর ১০,৬৬৭ টাকা/বর্গফুট।

সব খরচসহ: একই ফ্ল্যাটে পার্কিং ৫ লাখ, রেজিস্ট্রেশন ১০% (ধরে নেওয়া), ইউটিলিটি ১.৫ লাখ। রেজিস্ট্রেশন = ১,০৫,০০,০০০ × ১০% = ১০,৫০,০০০। মোট ১,১৭,০০,০০০ টাকা; বিক্রয় আয়তনে ৯,৩৬০ এবং কার্পেটে ১২,৪৮০ টাকা/বর্গফুট।

দুই ফ্ল্যাটের তুলনা: ফ্ল্যাট ক ১,২৫০ বর্গফুট ৮,০০০ দরে ২৫% কমন স্পেস (কার্পেটে ১০,৬৬৭)। ফ্ল্যাট খ ১,১০০ বর্গফুট ৮,৫০০ দরে ১৫% কমন স্পেস: কার্পেট ৯৩৫ বর্গফুট, দর ১০,০০০। দর বেশি বলা হলেও ব্যবহারযোগ্য জায়গায় খ প্রতি বর্গফুটে ৬৬৭ টাকা সস্তা।

বাংলাদেশে যা জানা দরকার

  • ডেভেলপাররা সাধারণত কমন স্পেসসহ “বিক্রয়যোগ্য” আয়তনে দাম বলেন। চুক্তিপত্রে কার্পেট বা নিট আয়তন আলাদা করে লেখা আছে কি না দেখে নিন।
  • গাড়ি পার্কিং, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ, জেনারেটর, সার্ভিস চার্জ বা রিজার্ভ ফান্ড প্রায়ই দরের বাইরে আলাদা নেওয়া হয়। কিস্তির কাগজে কোনটা কোনটা আছে মিলিয়ে নিন।
  • রেজিস্ট্রেশনে স্ট্যাম্প শুল্ক, রেজিস্ট্রেশন ফি, স্থানীয় সরকার কর ও উৎসে কর লাগে; হার এলাকা ও বাজেট অনুযায়ী বদলায়। এই ক্যালকুলেটর কোনো হার ধরে নেয় না, আপনার জানা হার লিখুন। জমির ক্ষেত্রে আনুমানিক হিসাবের জন্য জমি রেজিস্ট্রেশন খরচ ক্যালকুলেটর দেখুন।
বিস্তারিত: বর্গফুট দর কেন বিভ্রান্তিকর হতে পারে

দুটি প্রকল্পে একই “৮,০০০ টাকা বর্গফুট” বলা হলেও আপনি ঘরের ভেতর একই জায়গা পাবেন, এমন নয়। একটি প্রকল্পে লবি বড়, লিফট দুটি, ছাদে কমিউনিটি হল থাকলে কমন স্পেসের ভাগ বেশি হয়, আর সেই ভাগ আপনার বর্গফুটে যোগ হয়। তাই তুলনার সময় কার্পেট আয়তনে দর দেখাই ভালো।

কমন স্পেসকে কেউ বিক্রয় আয়তনের শতাংশ হিসেবে বলেন (যেমন “১,২৫০-এর ২৫% কমন”), আবার কেউ কার্পেট আয়তনের ওপর “লোডিং” হিসেবে বলেন (যেমন “৯৩৭.৫-এর ওপর ৩৩.৩% লোডিং”)। দুটো একই জিনিস, শুধু ভিত্তি আলাদা। এই ক্যালকুলেটর প্রথম পদ্ধতি ব্যবহার করে। আপনার কাছে লোডিং % থাকলে রূপান্তর করুন: কমন% = লোডিং ÷ (১ + লোডিং)।

মোট খরচ বোঝার জন্য পার্কিং, রেজিস্ট্রেশন ও ইউটিলিটি যোগ করে “সব খরচসহ” দর দেখুন। ব্যাংক ঋণ নিলে কিস্তি জানতে ইএমআই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।

সাধারণ প্রশ্ন

ফ্ল্যাটের বর্গফুট দাম কীভাবে হিসাব করে?

মোট দাম = বিক্রয়যোগ্য আয়তন × প্রতি বর্গফুট দর। উল্টো দিকে, দর = মোট দাম ÷ আয়তন। যেমন ৯০ লাখ টাকায় ১,২০০ বর্গফুট মানে ৭,৫০০ টাকা/বর্গফুট।

কমন স্পেস বা লোডিং কী?

সিঁড়ি, লিফট, লবি, ছাদ, দেয়ালের পুরুত্ব ইত্যাদি যে জায়গা সবাই মিলে ব্যবহার করে। ডেভেলপার এর ভাগ আপনার ফ্ল্যাটের আয়তনে যোগ করে বিক্রি করে, তাই ঘরের ভেতরে মাপলে বর্গফুট কম পাবেন।

কার্পেট আয়তন কীভাবে বের করব?

কার্পেট আয়তন = বিক্রয়যোগ্য আয়তন × (১ − কমন স্পেস%)। ১,২৫০ বর্গফুটে ২৫% কমন স্পেস হলে ব্যবহারযোগ্য ৯৩৭.৫ বর্গফুট।

দুটি ফ্ল্যাটের মধ্যে কোনটা সস্তা বুঝব কীভাবে?

শুধু বর্গফুট দর না দেখে কার্পেট আয়তনে দর তুলনা করুন। কম দর বলা ফ্ল্যাটেও কমন স্পেস বেশি হলে ব্যবহারযোগ্য জায়গায় দাম বেশি পড়তে পারে।

রেজিস্ট্রেশন খরচ কত ধরব?

এখানে কোনো সরকারি হার ধরে রাখা হয়নি, আপনি নিজে % লিখবেন। স্ট্যাম্প, রেজিস্ট্রেশন ফি, স্থানীয় কর ও উৎসে কর মিলিয়ে হার এলাকা ও দলিলমূল্য অনুযায়ী বদলায়; সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা দলিল লেখকের কাছে জেনে নিন।

পার্কিংয়ের দাম কি বর্গফুট দরের মধ্যে থাকে?

সাধারণত না। অনেক প্রকল্পে গাড়ি পার্কিং আলাদা দামে বিক্রি হয়। তাই এটা আলাদা ঘরে লিখুন, তাহলে সব মিলিয়ে বর্গফুটে কত পড়ছে দেখতে পাবেন।

এই নামেও খোঁজেন

ফ্ল্যাটের দাম হিসাব · স্কয়ার ফিট দাম ক্যালকুলেটর · ফ্ল্যাট কেনার খরচ · কমন স্পেস হিসাব · flat price calculator bd · flat er dam hisab · per square feet flat price