১ লাখ টাকা ১০% হারে ১ বছরের এফডিআরে মুনাফা ৳১০,০০০; ১০% উৎসে কর কাটার পর মেয়াদশেষে হাতে পাবেন ৳১,০৯,০০০। ৩ বা ৬ মাসের এফডিআর আর অটো-রিনিউ মিলিয়েও নিচে হিসাব করুন।
৳
= ১ লাখ টাকা
%
মাস
= ১ বছর
বার
০ = নবায়ন নেই। নবায়নে কর কাটার পর মুনাফা মূল টাকার সঙ্গে যোগ হয়।
রিটার্ন জমার প্রমাণ (PSR)
আবগারি শুল্ক
মেয়াদশেষে হাতে পাবেন
৳১,০৯,০০০
মোট সময় ১ বছর, কর ও শুল্ক কাটার পর
মূল টাকা
৳১,০০,০০০
মোট মুনাফা (কর কাটার আগে)
৳১০,০০০
উৎসে কর (১০%)
− ৳১,০০০
আবগারি শুল্ক
− ৳০
নিট মুনাফা
৳৯,০০০
বছরে নিট মুনাফার হার
৯%
৳১,০০,০০০ এফডিআর ১০% হারে ১ বছর রাখলে কর ও শুল্ক কাটার পর পাবেন ৳১,০৯,০০০, নিট মুনাফা ৳৯,০০০।
আবগারি শুল্কের কিছু ধাপ এখনো যাচাই চলছে — ব্যাংক থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
প্রতি মেয়াদ কত দিন দিন: চিপ থেকে ১, ৩, ৬ বা ১২ মাস বাছুন, অথবা ‘বছর’ বেছে কয়েক বছর লিখুন।
মেয়াদশেষে অটো-রিনিউ হলে কতবার হবে লিখুন। যেমন ৩ মাসের এফডিআর বছরজুড়ে রাখতে ৩ বার নবায়ন।
রিটার্ন জমার প্রমাণ (PSR) আছে কি না আর আবগারি শুল্ক ধরবেন কি না বাছুন। হাতে কত পাবেন সাথে সাথে দেখবেন।
এফডিআর মুনাফার সূত্র
প্রতি মেয়াদে সরল মুনাফা:
মুনাফা = মূল টাকা × বার্ষিক হার × (মাস ÷ ১২)
তারপর মুনাফা থেকে উৎসে কর কাটা হয়। অটো-রিনিউ হলে কর কাটার পরের মোট টাকাই পরের মেয়াদের মূল টাকা। আবগারি শুল্ক বছরে একবার কাটা হয়।
উদাহরণ
১ বছরের এফডিআর: ১ লাখ টাকা, ১০%, PSR আছে। মুনাফা ৳১০,০০০, কর ৳১,০০০, হাতে ৳১,০৯,০০০। ব্যালান্স ৳৪ লাখের নিচে, তাই আবগারি শুল্ক নেই।
৩ মাসের এফডিআর, বছরজুড়ে রিনিউ: ৫ লাখ টাকা, ১০%, ৩ মাস করে ৪ মেয়াদ (৩ বার নবায়ন)। কর কাটার পর বছর শেষে ৳৫,৪৬,৫৪২; সর্বোচ্চ ব্যালান্স ৳৫–১০ লাখের ধাপে, তাই আবগারি শুল্ক ৳৫০০, হাতে ৳৫,৪৬,০৪২।
মেয়াদ
শুরুর টাকা
মুনাফা
কর (১০%)
মেয়াদশেষে
১
৳৫,০০,০০০
৳১২,৫০০
৳১,২৫০
৳৫,১১,২৫০
২
৳৫,১১,২৫০
৳১২,৭৮১
৳১,২৭৮
৳৫,২২,৭৫৩
৩
৳৫,২২,৭৫৩
৳১৩,০৬৯
৳১,৩০৭
৳৫,৩৪,৫১৫
৪
৳৫,৩৪,৫১৫
৳১৩,৩৬৩
৳১,৩৩৬
৳৫,৪৬,৫৪২
বাংলাদেশে যা জানা দরকার
উৎসে কর: মুনাফার ১০%; রিটার্ন জমার প্রমাণ (PSR) না থাকলে ১৫%।
আবগারি শুল্ক: ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৳৪ লাখ পর্যন্ত মুক্ত। ধাপগুলো প্রতি বাজেটে বদলাতে পারে।
দিন গণনা: কিছু ব্যাংক মাসের বদলে দিন ÷ ৩৬৫ ধরে মুনাফা হিসাব করে, তাই কয়েক টাকা পার্থক্য হতে পারে।
রিনিউর হার: অটো-রিনিউর সময় ব্যাংকের তখনকার হার প্রযোজ্য হয়। এই ক্যালকুলেটর পুরো সময় একই হার ধরে।
বিস্তারিত: এফডিআর, ডিপিএস না সঞ্চয়পত্র?
হাতে একসঙ্গে টাকা থাকলে এফডিআর সহজ আর তুলনামূলক নিরাপদ। নিয়মিত অল্প করে জমাতে চাইলে ডিপিএস। সঞ্চয়পত্রের হার সাধারণত এফডিআরের চেয়ে বেশি, কিন্তু কেনার সীমা আর মেয়াদের আগে ভাঙার শর্ত কড়া। যেকোনো ক্ষেত্রে কর কাটার পরের নিট মুনাফা মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিন, শুধু ঘোষিত হার দেখে নয়।
সাধারণ প্রশ্ন
এফডিআর কী?
এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট) হলো নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ব্যাংকে একসঙ্গে টাকা রাখা। মেয়াদশেষে মূল টাকা আর মুনাফা পান, অথবা অটো-রিনিউ হলে আবার নতুন মেয়াদে চলে যায়। ইসলামি ব্যাংকে একে মুদারাবা মেয়াদি আমানত বলে।
১ লাখ টাকা এফডিআর করলে মাসে কত মুনাফা?
১০% হারে বছরে মুনাফা ৳১০,০০০, অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ৳৮৩৩। ১০% উৎসে কর কাটার পর বছরে ৳৯,০০০, মাসে ৳৭৫০। মাসে মাসে মুনাফা তুলতে চাইলে ব্যাংকের মাসিক মুনাফা প্রকল্প দেখুন।
এফডিআরের মুনাফা থেকে কত উৎসে কর কাটে?
মুনাফার ১০%। রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও যদি রিটার্ন জমার প্রমাণ (PSR) দেখাতে না পারেন, তাহলে ১৫%।
আবগারি শুল্ক কত, কখন কাটে?
বছরে একবার, হিসাবের সর্বোচ্চ ব্যালান্সের ওপর। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৳৪ লাখ পর্যন্ত শুল্ক নেই; ৳৫–১০ লাখে ৳৫০০, ৳১০–৫০ লাখে ৳৩,০০০, ৳৫০ লাখ–১ কোটিতে ৳৫,০০০। কিছু ধাপ এখনো যাচাই চলছে।
৩ মাসের এফডিআর বারবার রিনিউ করলে কি বেশি পাওয়া যায়?
প্রতি রিনিউতে কর কাটার পর মুনাফা মূল টাকার সঙ্গে যোগ হয়, তাই একই হার থাকলে সামান্য বেশি পান। তবে স্বল্পমেয়াদি এফডিআরের হার সাধারণত ১ বছরের চেয়ে কম, আর রিনিউর সময় হার বদলাতে পারে। দুটো হার দিয়ে আলাদা হিসাব করে মিলিয়ে নিন।
মেয়াদের আগে এফডিআর ভাঙলে কী হয়?
বেশিরভাগ ব্যাংক তখন কম হারে (প্রায়ই সঞ্চয়ী হিসাবের হারে) মুনাফা দেয়, খুব অল্প সময়ে ভাঙলে মুনাফা নাও দিতে পারে। টাকা দরকার হলে ভাঙার বদলে এফডিআরের বিপরীতে ঋণও নেওয়া যায়।